শরীয়তপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর চাপ। অতিরিক্ত রোগীর কারণে নির্ধারিত শয্যার বাইরে হাসপাতালের মেঝেতেও অনেককে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের পাশাপাশি অন্যান্য রোগীর চিকিৎসা চলছে। রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিনজন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে সাতজন ছাড়পত্র নিয়েছেন। বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৫ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ নিয়ে গত ছয় মাসে হাসপাতালটিতে ২৩৭ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ১৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৪৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, অতিরিক্ত রোগীর কারণে অনেক সময় মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে অপরিষ্কার পরিবেশ এবং সময়মতো চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা। এতে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেঙ্গু ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

শরীয়তপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ও ৪৩ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন। সব মিলিয়ে হাসপাতালে বর্তমানে ৪১৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চাপ তৈরি হয়েছে।