বেসরকারি এমপিওভুক্ত ৪ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন অনিয়মের তদন্ত করেও বছরের পর বছর প্রতিবেদন জমা দেননি শিক্ষা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) কর্মকর্তারা। এসব তদন্তের অনেকগুলোই ৫ থেকে ১০ বছর ধরে ঝুলে আছে।
ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন আটকে রাখার পেছনে ডিআইএর একশ্রেণির কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে ৪০ কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
ডিআইএর মূল দায়িত্ব স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার আর্থিক নিরীক্ষা এবং বিভিন্ন অনিয়ম তদন্ত করা। গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা ৪ হাজারের বেশি নিরীক্ষা ও তদন্ত করেন। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার অনলাইনে এবং বাকিগুলো সরেজমিনে করা হয়। কিন্তু এসব তদন্তের অনেকগুলোর প্রতিবেদন এখনো জমা হয়নি।
ডিআইএর পরিচালক অধ্যাপক মো. আফলাতুন জানান, কিছু পরিদর্শক তদন্ত প্রতিবেদন না দিয়েই বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। তাঁদের চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং কিছু প্রতিবেদন হালনাগাদ করে জমাও পড়েছে। ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালের অনেক পুরোনো প্রতিবেদনও তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর পেয়েছেন বলে জানান। এগুলো নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, অনিয়মে জড়িত শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে কোনো কোনো কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন আটকে রাখতেন। শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক অধ্যাপকও মনে করেন, দীর্ঘদিন প্রতিবেদন জমা না পড়ার পেছনে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ডিআইএর পরিদর্শকদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের অনিয়ম ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়ম, জাল সনদসহ বিভিন্ন বিষয় তদন্তের সময় শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক দশকে ডিআইএতে এমন ১০ হাজারের বেশি ফাইলের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলোতে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। আটকে থাকা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য গত ২০ আগস্ট ৪০ পরিদর্শককে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাবিদদের পরামর্শ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে ডিআইএর কর্মকর্তাদেরও কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন আটকে রাখার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

মন্তব্য করুন