সাত কোটি টাকার একটি মর্টগেজ দলিল নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রার রাশিদা ইয়াসমিন মিলির বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া, অপমান ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ২৫তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা ও মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মাহবুবুল হক নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর দেওয়া ওই অভিযোগের অনুলিপি শরীয়তপুর জেলা রেজিস্ট্রারের কাছেও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগপত্রে ডা. মাহবুবুল হক উল্লেখ করেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সাত কোটি টাকার মর্টগেজ দলিল নিবন্ধনের জন্য শরীয়তপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে যান। সেখানে দলিল নিবন্ধন নিয়ে আলোচনার সময় একপর্যায়ে অন্যদের কক্ষের বাইরে যেতে বলা হয়। এরপর তাঁর কাছে ‘খরচ’ ও ‘ব্যবস্থা’ করার বিষয়ে কথা বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ডা. মাহবুবুল হকের দাবি, তিনি এতে সম্মতি না দেওয়ায় তিনি কথোপকথন রেকর্ড করছেন—এমন অভিযোগ তুলে তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে আছড়ে ফেলা হয়। পরে জেলা রেজিস্ট্রার হেলেনা পারভীনের উপস্থিতিতে ফোনটি পরীক্ষা করা হয়। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ফোনে কোনো অডিও বা ভিডিও রেকর্ডিং পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি দেখার পর জেলা রেজিস্ট্রার মর্টগেজ দলিলটি পর্যালোচনা করে সাব-রেজিস্ট্রারকে দলিলটি নিবন্ধনের নির্দেশ দেন।
এরপরও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় বলে অভিযোগ করেন ডা. মাহবুবুল হক। তাঁর দাবি, প্রকাশ্য এজলাসে তাঁকে অপমান করা হয় এবং থাপ্পড় মারার হুমকি দেওয়া হয়। তাঁর সঙ্গে থাকা একজনকেও ‘দালাল’ বলে মন্তব্য করা হয়। পরে তাঁকে আলাদাভাবে ডেকে নারী-সংক্রান্ত মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ডা. মাহবুবুল হক বলেন, তাঁর কাছে অনৈতিক অর্থ দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথি পরীক্ষা করা হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাব-রেজিস্ট্রার রাশিদা ইয়াসমিন মিলি। তাঁর ভাষ্য, ঘটনাটি মূলত ভুল-বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে।
জেলা রেজিস্ট্রার হেলেনা পারভীন বলেন, ডা. মাহবুবুল হকের লিখিত অভিযোগ তিনি পেয়েছেন।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মন্তব্য করুন