গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী শিল্পাঞ্চলে ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কারখানায় লাগা আগুন প্রায় সাড়ে ১২ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বুধবার সকালে সূত্রপাত হওয়া এই অগ্নিকাণ্ডে একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং রাসায়নিকের কারণে পরিবেশগত প্রভাব এখনো নিরূপণ করা যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানিয়েছেন, কারখানায় বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক থাকায় আগুন নেভাতে বিশেষ সতর্কতা নিতে হয়েছে। প্রত্যক্ষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ১০টার দিকে ইউনিট-২ এর একটি ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ধোঁয়া ও রাসায়নিকের গন্ধ আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিটের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করে এবং রাত ১০টা ২৫ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আগুন নেভানোর সময় ফায়ার সার্ভিসের একজন সদস্য শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন এবং তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। কারখানাটি ইনজেকশন, সিরাপ ও ক্যানসারের ওষুধ উৎপাদন করে থাকে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানতে গণমাধ্যমকর্মীরা কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও ভেতর থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি এবং ভেতরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ফলে উৎপাদন ব্যবস্থা, যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও মজুত ওষুধের ক্ষতির সঠিক চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়।

মন্তব্য করুন