ফরিদপুরের সদরপুরে হত্যা মামলার আসামি হয়ে প্রায় পাঁচ মাস বাড়িছাড়া থাকার পর ফিরে গিয়ে এক পরিবার ঘরবাড়ি তছনছ ও প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালপত্র লুটের অভিযোগ করেছে। গত শুক্রবার তালা খুলে ঘরে ঢুকে মালপত্র এলোমেলো অবস্থায় পান ভুক্তভোগীরা।
সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চরচাঁদপুর কাজী ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা কাজী সিরাজুল ইসলাম (৫৮) গত ২৯ মে মারা যান। এ ঘটনায় কয়েক স্বজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন স্ত্রী সালমা আক্তার (৪০)। মামলায় আসামি করা হয় সিরাজুল ইসলামের ভাতিজা কাজী তুষার মাহমুদ (৩৫), তার স্ত্রী নাফিসা হক (২৫), তার ভাই কাজী সুমন (৪১), তার স্ত্রী সুইটি আক্তার (৩৭) ও তাদের মা ডলি আক্তারকে (৬৫)।
মামলার আসামিদের দাবি, সিরাজুল ইসলামের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল, তবু এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের হয়রানি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, মামলায় আসামি হওয়ার পর হয়রানির আশঙ্কায় তারা অন্য জায়গায় চলে যান। ৩০ মে সদরপুর থানার তৎকালীন ওসি মো. আব্দুল আল মামুন শাহের নির্দেশে বাড়িতে তালা দেওয়া হয়। আইনি লড়াই করে প্রায় পাঁচ মাস পর তারা স্থায়ী জামিন পান। গত শুক্রবার সদরপুর থানা-পুলিশের একটি দল তাদের বাড়িতে যায়। স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তালা খুলে ভেতরে গিয়ে বিভিন্ন কক্ষের মালপত্র এলোমেলো দেখতে পান তারা। সোনার গয়না, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র他们也 খুঁজে পাননি।
কাজী তুষার মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের বাড়ি থেকে আনুমানিক ৪৫-৫০ লাখ টাকার মালপত্র লুট করা হয়েছে।’ লুটের ঘটনার নেতৃত্ব দেন ফুফাতো ভাই সবুজ শিকদার, জাহিদ খান ও চাচাতো ভাই কাজী মাসুদ রানা বলে তিনি দাবি করেন। ছাদের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয় বলেও তিনি জানান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্রিজে রাখা প্রায় ৯২ কেজি কোরবানির গরুর মাংস, পানির টিউবওয়েল, চাষের কালোজিরা, ব্যাংকের চেক, দামি কাপড়চোপড়, জমির দলিল ও সনদপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পুকুরের মাছ ধরা ও গাছপালা কেটে নষ্ট করার অভিযোগও আছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, মামলা করার ইন্ধন দিয়েছেন তুষারের ফুফাতো ভাই সবুজ শিকদার (৪২), জাহিদ খান (৪০) ও চাচাতো ভাই কাজী মাসুদ রানা (৩৩)। তাদের নেতৃত্বেই গত ৬ জুন বাড়িতে লুটপাট চালানো হয়।
কাজী সুমন বলেন, ‘আমাদের চাচা কাজী সিরাজুল ইসলাম স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেও তার মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জেনেছি। সেই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আমাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে।’
প্রতিবেশী ওবায়দুর কাজী (৪৫) বলেন, ‘আমরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও পারিনি। সবার হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল।’ আরেক বাসিন্দা আলমগীর (৩৫) জানান, দিনদপুরে অনেক লোক একসঙ্গে এসে এ ঘটনা ঘটায়, লোকসংখ্যা বেশি ও হাতে অস্ত্র থাকায় তারা বাধা দেওয়ার সাহস পাননি।
বক্তব্যের জন্য সবুজ শিকদার ও তার পক্ষের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। সদরপুর থানার উপপরিদর্শক মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, বাড়িটি তালাবদ্ধ করার সময় সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। শুক্রবার গিয়ে বিভিন্ন কক্ষের আসবাবপত্র এলোমেলো পেয়েছেন। মালিকপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করা হবে।
—

মন্তব্য করুন