ধর্মীয় পরিচয়ের বিভাজন নয়, সব নাগরিকের সমান মর্যাদার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র আট মাসের মধ্যেই সরকার এবারের পূজায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ও ছুটির ব্যবস্থা করেছে।
মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের রহমতগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হল পূজামণ্ডপে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নাগরিক সমতার ভিত্তি আরও শক্ত করতে চায় সরকার। তাঁর ভাষায়, দেশে বসবাসকারী কোনো ধর্মের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ পরিচয়ে আলাদা করে দেখার প্রয়োজন নেই; সবাই রাষ্ট্রের সমান নাগরিক।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার সময় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে রক্ত দিয়েছেন। একইভাবে সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানেও সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। তাই রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকের পরিচয়ই প্রধান—ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মর্যাদার কোনো ভিন্নতা থাকা উচিত নয়।
অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে একটি পক্ষ প্রতিবেশী দেশের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় থাকার রাজনীতি করেছে। বর্তমান সরকার সেই ধরনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায় যেখানে বৈষম্যের সুযোগ থাকবে না এবং প্রত্যেক নাগরিক নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও পরিচয় নিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রের দায়িত্বও হবে সবার নিরাপত্তা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, যারা দীর্ঘদিন বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে বিবেচনা করেছে, তাদের সেই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জনগণের আস্থা ও সমর্থনের প্রতিদান হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন শুরু করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ সময় এবারের দুর্গাপূজার সরকারি উদ্যোগ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার আট মাসের মধ্যেই পূজার জন্য দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বরাদ্দ এবং সর্বোচ্চ ছুটি নিশ্চিত করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে রাষ্ট্রের সমানাধিকার ও নিরাপত্তার অঙ্গীকারই ছিল মূল সুর।

মন্তব্য করুন