এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভ এবার ফ্রান্সের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে বড় ধরনের চাপে ফেলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্যারিসের কয়েকটি এলাকা ও দেশের আরও কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। কোথাও নিষেধাজ্ঞা সবার জন্য, আবার কোথাও শুধু অপ্রাপ্তবয়স্কদের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

রাজধানী প্যারিসের প্লেস দ্য লা রিপাবলিক ও লে আলের আশপাশের এলাকায় মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর করা হয়। একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে নিস শহরেও। তবে সেখানে নিষেধাজ্ঞা মূলত অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রযোজ্য।

উত্তর ফ্রান্সের আরও তিনটি শহরে দুই দিনের জন্য কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট এলাকায় কারফিউ জারির নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলনে শিক্ষাব্যবস্থার নানা অনিয়ম, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের অভিযোগ, সরকার তাদের দাবিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না।

এক বিক্ষোভকারী বলেন, মানুষের সামনে তুলে ধরার মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ দাবি থাকলেও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ সেগুলো শুনছেন না। ফলে আন্দোলনের ক্ষোভ আরও বাড়ছে।

তবে আন্দোলনের সঙ্গে সহিংসতা ও লুটপাট যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে ব্যবসায়ী মহলেও। প্যারিসের কয়েকটি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বলছেন, এসব ঘটনার সঙ্গে প্রকৃত বিক্ষোভকারীদের সম্পর্ক নেই; বরং সুযোগ নিয়ে দাঙ্গাবাজরা সম্পদ লুট করছে।

সোমবার প্যারিসে লুটপাটের শিকার কয়েকটি দোকান পরিদর্শন করেন দেশটির শ্রমমন্ত্রী জাঁ-পিয়েরে ফারান্দু। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি বলেন, প্রতিটি দোকানের সামনে আলাদাভাবে পুলিশ মোতায়েন করা সম্ভব নয়। তাই সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সমস্যার মূল কারণ মোকাবিলা করতে হবে।

পরিস্থিতির আরও অবনতির মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নে ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, বিক্ষোভের সময় কয়েকটি শহরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে কঠিন অবস্থার মুখে পড়তে হয়েছে।

সরকারের ওপর এখন একদিকে বিক্ষোভকারীদের দাবি মোকাবিলার চাপ, অন্যদিকে সহিংসতা ও লুটপাট ঠেকানোর দায়িত্ব। ফলে ফ্রান্সের চলমান আন্দোলন কেবল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষের বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এটি ক্রমেই দেশটির আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।