বিদেশে সেনা পাঠানোর সম্ভাব্য প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ সামনে এগিয়েছে তুরস্ক। সেনা মোতায়েনের আগে সংশ্লিষ্ট ‘মক্কা চুক্তি’ সংসদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে চুক্তি পাস হলেও তা সরাসরি তুর্কি সেনাবাহিনীকে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি হিসেবে গণ্য হবে না।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চুক্তির নথি দেশটির সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, স্পিকার এটি সংসদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে পাঠাবেন। সেখানে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সদস্যরা চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করবেন।
চুক্তিকে ঘিরে সংসদীয় কমিটিতে উত্তপ্ত বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এর বিভিন্ন ধারা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আপত্তি রয়েছে। কমিটির আলোচনা শেষে চুক্তিটি পূর্ণাঙ্গ সংসদে তোলা হবে এবং সেখানে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে।
চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতাই যথেষ্ট। এর জন্য দুই-তৃতীয়াংশ বা কোনো বিশেষ উচ্চমাত্রার সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন নেই। ক্ষমতাসীন দল ও তাদের মিত্রদের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় চুক্তিটি অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এখানেই শেষ নয়। চুক্তি সংসদে পাস হওয়া এবং বিদেশে তুর্কি সেনা মোতায়েন—দুটি পৃথক আইনি প্রক্রিয়া। চুক্তির অনুমোদন নিজে থেকে সেনা পাঠানোর অনুমতি তৈরি করবে না।
বিদেশের মাটিতে তুর্কি সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হলে পরবর্তী ধাপে আলাদা একটি প্রস্তাব বা বিল সংসদে আনতে হবে। সেটিও সংসদের অনুমোদন পেতে হবে। ফলে সম্ভাব্য সেনা মোতায়েনের ক্ষেত্রে মক্কা চুক্তির অনুমোদনকে দেখা হচ্ছে প্রাথমিক সংসদীয় ধাপ হিসেবে; এরপর শুরু হবে সেনা পাঠানোর বিষয়ে পৃথক আইনি প্রক্রিয়া।
এ কারণে আসন্ন সংসদীয় আলোচনা শুধু একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির অনুমোদন নয়, তুরস্কের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের রাজনৈতিক ও আইনি ভিত্তি কতটা শক্ত হবে—তারও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

মন্তব্য করুন