গাইবান্ধা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে ৬ হাজার ৮৪৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। আদালতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, জেলার ইতিহাসে এটি রেকর্ডসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির ঘটনা। তবে বিচারক ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর সংকটের মধ্যেই আদালতটিতে বর্তমানে ১৯ হাজার ৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
আদালতের নাজির মো. রেজাউল করিম সরকার মামলা নিষ্পত্তির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি গাইবান্ধা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ৯৫৬টি। বছরের প্রথম দিন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে নতুন করে ৭ হাজার ৭৮৩টি মামলা দায়ের হয়। এ ছাড়া জেলা জজ আদালত থেকে পাঁচ লাখ টাকার কম অর্থের এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার মামলাসহ বিভিন্ন মামলা বদলির মাধ্যমে এ আদালতে আসে।
আদালত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে আদালতটিতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ২১৩টি। একই সময়ে বিভিন্ন আদালতে বিচারের জন্য ২১ হাজার ৯৭টি মামলা বদলি করা হয়। বর্তমানে আদালতটিতে ১৯ হাজার ৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
বিচারক সংকট ও অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা
আদালত সূত্র জানায়, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ১১টি বিচারকের পদ থাকলেও চারটি পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে কর্মরত আছেন সাতজন বিচারক। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতিও রয়েছে আদালতটিতে।
বিচারসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির ভাষ্য, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ২০২৫ সালের নভেম্বরে গাইবান্ধায় যোগ দেওয়ার পর মামলা নিষ্পত্তির গতি বেড়েছে এবং মামলাজট কমেছে।
গাইবান্ধা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হিপজুর আলম মুন্সী বলেন, নির্ধারিত দিনে সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় আগে মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হতো। তবে বিচারকদের তাগিদে এখন সময়মতো সাক্ষী হাজির করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ কারণে গত নয় মাসে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান বলেন, সম্প্রতি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা নিষ্পত্তির হার অনেক বেড়েছে। এতে বিচারপ্রার্থীরা উপকৃত হচ্ছেন।

মন্তব্য করুন