সৌদি আরবের আকাশে রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় দেশের প্রচলিত নিয়মের একদিন আগেই রোজা শুরু করছেন চাঁদপুরের প্রায় অর্ধশত গ্রামের মানুষ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরিফসহ জেলার ৫টি উপজেলার এসব গ্রামের বাসিন্দারা পবিত্র রমজান পালন শুরু করবেন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাদ্রা দরবার শরিফের পীরজাদা ড. বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখার খবর পাওয়ার পর দরবার শরিফে তারাবি ও রোজা রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া মতলব উত্তরের সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরিফেও বুধবার থেকে রোজা শুরুর লক্ষ্যে তারাবির নামাজের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাজীগঞ্জের সাদ্রা, বলাখাল, অলিপুরসহ কয়েকটি গ্রাম এবং ফরিদগঞ্জ, মতলব, কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলার বেশ কিছু এলাকার মানুষ দীর্ঘ দিন ধরে এই নিয়ম মেনে আসছেন। ১৯৩২ সালে সাদ্রা দরবার শরিফের তৎকালীন পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) আরবের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশে রোজা ও ঈদ পালনের এই প্রথা প্রবর্তন করেন।

মতলব উপজেলার ১৮টি গ্রাম এবং ফরিদগঞ্জের প্রায় ২০টি গ্রামে একই সঙ্গে রোজা পালন করা হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতেই এসব গ্রামের মসজিদগুলোতে তারাবির নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে পবিত্র রমজানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। প্রায় এক শতাব্দী ধরে চলা এই ঐতিহ্য অনুযায়ী, ভৌগোলিক অবস্থানের চেয়ে ধর্মীয় ঐক্যের ভিত্তিতে আরবের পঞ্জিকাকেই প্রাধান্য দেন তারা।