দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চাকরিতে পুনর্বহাল হয়েছেন সাবেক উপ-পরিচালক এমএম শাব্বির হাসান। তার বিরুদ্ধে জারি করা সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে বিভাগীয় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান আদেশে স্বাক্ষর করেন।

দুদকের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কমিশনের সভায় আদালতের রায় এবং ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল না করার সিদ্ধান্তের পর এমএম শাব্বির হাসানকে বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে চাকরিতে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে বিভাগীয় মামলা নম্বর ০৩/২০১১-এর অভিযোগের দায় থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হলো এবং তাকে দুদকের চাকরিতে পুনর্বহাল করা হলো। একই সঙ্গে সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়কে তার কর্মকাল হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এমএম শাব্বির হাসান ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা করেছিলেন। মামলাটিতে তৎকালীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সচিব তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান নূরুদ্দীন মাহমুদ কামাল, সামিট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আজিজ খান ও পরিচালক মুহাম্মদ ফরিদ খান, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা এবং পরিচালক আবুল কালাম আজাদকে আসামি করা হয়েছিল।

দুদকের এই কর্মকর্তা ওয়ান-ইলেভেন-পরবর্তী সময়েও বেশ কয়েকটি আলোচিত মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসব মামলার মধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাও ছিল।

পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শাব্বির হাসানের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম দুদক কার্যালয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে মামলা করা হয় এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ২০১৬ সালে ওই মামলায় আদালত তাকে খালাস দেন। তবে খালাসের বিরুদ্ধে তৎকালীন দুদক কমিশন হাইকোর্টে আপিল করায় বিষয়টি দীর্ঘ সময় ধরে বিচারাধীন ছিল। একই সময়ে তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশও বহাল থাকে।

দুদকের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তার চাকরিতে পুনর্বহালের পথে বাধা হিসেবে ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় তিনি চাকরিতে ফিরতে পারেননি।

সর্বশেষ আদালতের রায় এবং ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল না করার সিদ্ধান্তের পর দুদক কমিশন তার বিরুদ্ধে চলমান বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ধারাবাহিকতায় সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর বুধবার তিনি দুদকের চাকরিতে যোগদান করেন।