ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে জেন-জি নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শুক্রবার মুম্বাইয়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে ছাত্র ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সমাবেশ করার কথা রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, দেশব্যাপী ভোটার যাচাই কার্যক্রমের আওতায় বিপুলসংখ্যক বৈধ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
তবে নির্বাচন কমিশন ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকায় থাকা দ্বৈত নাম, মৃত ব্যক্তি ও অযোগ্য ভোটার শনাক্ত করে বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই নিয়মিত যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ মাসে ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং কমিশনের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই ডেপুটি অন্তত ১৪ বার উদ্বেগ জানিয়েছেন। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক এবং সব কার্যক্রম আইন ও নির্ধারিত নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়েছে।
সিজেপির আহ্বায়ক সৌরভ দাস এএনআইকে বলেন, পরিবর্তনের দাবি জানানো হলেও ভোটের অধিকারই যদি মানুষের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে পরিবর্তনের সুযোগ থাকে না। জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
গত বছর শুরু হওয়া দেশব্যাপী ভোটার যাচাই কার্যক্রমকে ঘিরেই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত। সমালোচকদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় ভোট দেওয়ার যোগ্য অনেক মানুষ তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভুয়া, মৃত ও অযোগ্য ভোটার বাদ দিয়ে তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেই যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোও আগামী ৬ অক্টোবর থেকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টি চলতি বছরের শুরুতে বেকারত্ব ও বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে তরুণদের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরে প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে সংগঠনটি আলোচনায় আসে। বর্তমানে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তাদের আন্দোলন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মন্তব্য করুন