নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে (এনওয়াইপিডি) পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট হয়েছেন শরীয়তপুরের সন্তান হুমায়ুন কবির। গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে এ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি এনওয়াইপিডির ইন্টেলিজেন্স ডিভিশনে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান হুমায়ুন কবির। চার বছর পর ২০০৫ সালে এনওয়াইপিডিতে ক্যাডেট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ২০০৮ সালে ম্যানহাটনের বারুচ কলেজ থেকে ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর পুলিশ অফিসার হিসেবে পদোন্নতি পান।
২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ম্যানহাটন ট্রানজিট পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হুমায়ুন। কর্মক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে টানা তিনবার তিনি ম্যানহাটন ট্রানজিট পুলিশের ‘অফিসার অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হন।
২০১৭ ও ২০১৮ সালে এনওয়াইপিডির ১১৩ প্রিসিঙ্কটের ডিটেকটিভ স্কোয়াডে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে পুলিশ সার্জেন্ট পদে উন্নীত হয়ে ৭ প্রিসিঙ্কটে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ওয়ান পুলিশ প্লাজায় এনওয়াইপিডির ইকুয়াল এমপ্লয়মেন্ট অপরচুনিটি ডিভিশনে যোগ দেন।
২০২২ সালে সার্জেন্ট হুমায়ুন কবির ও সার্জেন্ট এরশাদ সিদ্দিকী প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এনওয়াইপিডির ইন্টেলিজেন্স ডিভিশন থেকে নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের নিরাপত্তা বিভাগে দায়িত্ব পান। সেখানে প্রায় চার বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৪ সালে হুমায়ুন ‘ডিটেকটিভ সার্জেন্ট’ পদে পদোন্নতি পান। এরপর ইন্টেলিজেন্স ডিভিশনে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় এবার লেফটেন্যান্ট হলেন তিনি।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশি-আমেরিকানদের সংগঠন বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন হুমায়ুন কবির। ২০১৫ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।
হুমায়ুন কবির তার স্ত্রী তানজিলা খান, ছেলে তাসিন কবির ও মেয়ে তাসমিয়া কবিরকে নিয়ে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড এলাকায় বসবাস করেন।

মন্তব্য করুন