ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। তিনি বলেছেন, “মুসলমানরা যেমন আমার পরিবারের সদস্য, তেমনি অন্য ধর্মাবলম্বীরাও আমার পরিবারের সদস্য।” সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ধানকাটি ইউনিয়নের পৈতকাটি দুর্গামন্দির পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন হুইপ অপু।
আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের ব্যবস্থা রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও পূজা উদ্যাপন কমিটির মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকা জরুরি।
হুইপ অপু জানান, সাধারণত রাজনৈতিক নেতারা পূজার দিন মণ্ডপ পরিদর্শনে যান। তবে এবার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পূজার সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা আগেভাগে পর্যবেক্ষণের জন্য সংসদ সদস্যদের মণ্ডপ পরিদর্শন করতে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী তিনি আগাম মন্দির পরিদর্শন করেছেন।
বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এ দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মিলেমিশে বসবাস করছেন। এই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। কোনো ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভেদ, বিদ্বেষ কিংবা উসকানি ছড়ানোর সুযোগ দেওয়া যাবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কেউ যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মন্দির পরিদর্শনের সময় হুইপ অপু নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করেন। পরে ডামুড্যা উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা উন্নয়ন তহবিলের আওতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক শাহ আলম সিদ্দিকীর হাতে ডেঙ্গু রোগ শনাক্তকরণের ৫০০টি কিট তুলে দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন আইয়ুবী, ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জিল্লুর রহমান মধু, উজ্জ্বল শিকদার ও অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন মাদবরসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মন্তব্য করুন