উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে। টাকা ফেরত না পেয়ে বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরের পর সমিতির বাগচি বাজারের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করেন ক্ষুব্ধ গ্রাহক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সমিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনার পর টাকা ফেরতের দাবিতে শত শত গ্রাহক পালং মডেল থানায় অবস্থান নেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো নিয়মিত মামলা হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আংগারিয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড (নিবন্ধন নম্বর: শরীঃ ০৩) দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে আসছিল। সমিতির প্রচারে কিস্তিতে গরু-ছাগল দেওয়া, হালাল উপায়ে লাভের অংশ প্রদান এবং বিনা ঘুষে চাকরির সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হতো। এসব প্রস্তাবে আকৃষ্ট হয়ে বাগচি বাজার ও আশপাশের এলাকার নিম্ন আয়ের বহু মানুষ সমিতিতে টাকা জমা দেন। গ্রাহকদের যুক্ত করতে সমিতির খুদে বার্তা (এসএমএস) ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী সদস্য শিল্পী বেগম (সদস্য নম্বর: ১৯০১৭) জানান, তিনি প্রতি মাসে এক হাজার ৫০০ টাকা করে পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয় প্রকল্পে মোট ৯০ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। তার সঞ্চয়ের মেয়াদ শেষ হওয়ায় টাকা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বুধবার সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে সেটি বন্ধ দেখতে পান।

শিল্পী বেগম বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে প্রতি মাসে টাকা জমিয়েছি। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও টাকা পাচ্ছি না। অফিস বন্ধ দেখে খুব দুশ্চিন্তায় পড়েছি। আমরা আমাদের জমানো টাকা ফেরত চাই।’

তার মতো আরও অনেক গ্রাহকের মুঠোফোনে বিভিন্ন সময়ে টাকা জমার খুদে বার্তা এসেছে। তবে বর্তমানে সমিতির কার্যালয় বন্ধ থাকায় সঞ্চিত অর্থের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাচ্ছেন না তারা। এতে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সমিতির ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন ধরেননি।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, সমিতির প্রধান কার্যালয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরতের দাবিতে থানায় অবস্থান করছেন।

তিনি বলেন, ‘গ্রাহকদের টাকা উদ্ধারে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। তাদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আলোচনা বা সমঝোতায় সমাধান না হলে ভুক্তভোগীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নিয়মিত মামলা নেওয়াসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’