সিলেটের বিশ্বনাথ ও সদর উপজেলার দুটি মৌজায় প্রস্তাবিত খাল খননের কারণে প্রায় ৩৮ একর উর্বর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এ উদ্যোগ বন্ধ এবং খননকাজের আগে সরেজমিন তদন্তের দাবিতে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষে পৃথকভাবে এসব স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, বিশ্বনাথ উপজেলার ২ নম্বর খাজাঞ্চী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুপুর মৌজায় প্রায় ৩৫ একর এবং সিলেট সদর উপজেলার মেদিনী মহল মৌজায় প্রায় ৩ একর কৃষিজমি রয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় প্রস্তাবিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এসব জমি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

কৃষকদের দাবি, খাল খনন কর্মসূচির উদ্দেশ্য কৃষির উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা উন্নত করা এবং খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো। তবে প্রস্তাবিত স্থানে খননকাজ হলে উর্বর জমি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ব্যক্তিস্বার্থ বা পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

স্মারকলিপিতে কৃষকেরা উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত জমিগুলো একসময় সুরমা নদীর অংশ ছিল। তাঁদের দাবি, প্রায় একশ বছর আগে নদীটি ভরাট হয়ে গেলে ওই এলাকায় কৃষিজমি গড়ে ওঠে। জমির মালিকানা ও দখলের পক্ষে ১২০১ বঙ্গাব্দের একটি হালাবাদী চিঠির কথাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কৃষকদের ভাষ্য, তাঁদের পূর্বপুরুষদের মালিকানাধীন এসব জমি বর্তমানে উত্তরসূরিরা ভোগদখল করছেন। সেখানে খাসজমি না থাকা সত্ত্বেও খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত স্থান থেকে প্রায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার পশ্চিমে পুরোনো সুরমা নদীর ভরাট মুখে একটি সচল খাল রয়েছে। বর্ষাকালে ওই খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হয়। শীত মৌসুমে পানি আটকে থাকায় সেখানে শাকসবজিও চাষ করেন কৃষকেরা। এ অবস্থায় নতুন করে খাল খননের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

কৃষকদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত খননকাজ হলে কৃষিজমির ক্ষতির পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয়ও হতে পারে। তাই জমি রক্ষা ও প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

স্মারকলিপিতে মো. কয়েছ মিয়া, শফিক মিয়া, রফিক মিয়া, মতছির আলী ও দুলাল আহমদসহ ১৫ জন কৃষক স্বাক্ষর করেছেন। স্মারকলিপি দেওয়ার সময় তাঁদের পাশাপাশি এলাকার আরও কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।