জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় প্রবাসীদের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই নারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। হামলার পর নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ির নারী সদস্যরা অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের আউয়াল ঢালি বাড়ি (বিলের ঢালি বাড়ি) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মামলার বাদী মুনমুন আক্তারের অভিযোগ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই বাড়ির সামাদ ঢালি, রাসেল ঢালি ও আক্তার ঢালি দীর্ঘদিন ধরে ইতালি ও ওমানে প্রবাসে রয়েছেন। বাড়িতে তাঁদের পরিবারের নারী ও শিশুরা বসবাস করেন। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে স্থানীয় রাজিব মৃধা ও তামান্না আক্তারের নেতৃত্বে ১৩ থেকে ১৪ জনের একটি দল ৭ থেকে ৮টি মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে আসে। তাদের হাতে চাপাতি, রামদা, হকিস্টিক, ছেনি, লাঠিসোঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। পরে তারা বাড়িতে ঢুকে নারী সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে এবং ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

এ সময় স্টিলের আলমারি, ওয়ারড্রোব, বৈদ্যুতিক পাখা, চেয়ার-টেবিল, দরজা-জানালাসহ ঘরের বিভিন্ন মালামাল নষ্ট করা হয়। একপর্যায়ে ঘরের বেড়ায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার সময় রুপা বেগম, নাদিয়া আক্তার ও মুনমুন আক্তার মারধরের শিকার হন। পরে হামলাকারীরা আলমারির চাবি নিয়ে ভেতরে রাখা নগদ ২ লাখ টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের হিসাবে, লুট হওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকারের মোট মূল্য প্রায় ১৩ লাখ টাকা।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা মামলা করলে আবারও ফিরে এসে নারী সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালানোর হুমকি দেয়। ঘটনার পর স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাড়ির নারী সদস্যরা অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। পরে গত মঙ্গলবার রাসেল ঢালির স্ত্রী মুনমুন আক্তার বাদী হয়ে শরীয়তপুর আদালতে মামলা করেন। মামলায় রাজিব মৃধা ও তামান্না আক্তারসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৩ থেকে ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আহত নাদিয়া আক্তার বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে রাজিব মৃধা ও তামান্নার নেতৃত্বে একদল লোক তাঁদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারও নিয়ে গেছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

রুপা বেগম বলেন, হামলাকারীদের ভয়ে তাঁরা বাড়িতে থাকতে পারছেন না। নিরাপত্তার অভাবে অন্যত্র অবস্থান করছেন। এ পরিস্থিতিতে তাঁরা প্রশাসনের সহযোগিতা ও ন্যায়বিচার চান।

এ বিষয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি এখনো এ ঘটনায় কোনো কাগজপত্র পাননি। এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়েও তিনি অবগত নন।