রুদ্রবার্তা প্রতিবেদক ॥ স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী সুমন মাদবরকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছে শরীয়তপুর জেলা নারী ও শিশুনির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ. সালাম খান এই দন্ডাদেশ প্রদান করেন।
একই আদেশে মামলার অপর ৬ জন আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর জেলার ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের চরমালগাঁও গ্রামের মজিবর সরদারের পুত্র সুমন সরদার তার স্ত্রী আইরিন আক্তার জান্নাতকে যৌতুকের জন্য শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ গুম করে।
এর পূর্বে ১৪ ডিসেম্বর প্রতারণা করে জান্নাতকে তার পিতার বাড়ি সদর উপজেলার রুদ্রকর গ্রাম থেকে নিয়ে যায় স্বামী সুমন মাদবর। পরবর্তীতে ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সংবাদ পেয়ে ডামুড্যা থানার পুলিশ জান্নাতের মৃতদেহ ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি বিলের একটি কচুরিপনার স্তুপের নিচ থেকে উদ্ধার করে।
পরে নিহতের মা লিপি বেগম থানায় গিয়ে মৃতদেহ শনাক্ত করে এবং ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর তারিখ সুমন মাদবরকে প্রধান আসামী করে ৭ জনের বিরুদ্ধে ডামুড্যা থানায় মামলা দায়ের করে।
আসামী সুমন পুলিশ কতৃক ধৃত হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করে। এরপরে ২০১১ সালের ১৯ এপ্রিল মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল গ্রহন করে। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী মামলার অভিযোগ গঠন হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার স্বাক্ষ্যগ্রহন শুরু হয়। ৬ মাসের মধ্যেই বাদীসহ ১৩ জন স্বাক্ষি স্বাক্ষ্য গ্রহন সমাপ্ত করেন।
নিহতের ময়না তদন্ত গ্রহনকারী মেডিকেল অফিসার ডা. রাজেশ মজুমদার আড়াই বছর স্বাক্ষ্য প্রদানে বিলম্ব করে বলে মামলার বিচারকার্য আড়াই বছর বিলম্বিত হয়। মেডিকেল অফিসার সহ মামলার ১৪ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহন সমাপ্ত শেষে গত ২১ মে মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে ২৮ মে পর্যন্ত যুক্তিতর্ক শুনানী হয়।
৩০ মে রায়ের দিন ধার্য্য করা হয়। দীর্ঘদিন বিচার কার্য চলার পরে স্বাক্ষ্য প্রমাণে দোষী প্রমানিত হওয়ায় সুমন মাদবরকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
অপরাপর আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনা করেন রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফিরোজ আহমেদ। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট হয়ছি।
মামলার বাদী ও নিহতের মা লিপি বেগম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমার মেয়ের হত্যাকারীর বিচারের রায়ে আমি খুশি হয়েছি। তবে আদালতের কাছে আমার দাবী রায়ের দ্রুত বাস্তবায়ন যেন হয়। আসামী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমার মক্কেল ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতের আশ্রয় নেব।[facebook_likebox case_type=”like_button” fbl_id=”10″][/facebook_likebox]