দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম থেকে ৯৭২ কোটি টাকায় কেনা ৩০টি লোকোমোটিভের মধ্যে ১৮টিই চার বছরে অচল হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে কনটেইনার ও যাত্রী পরিবহনে। এই সংকট সামাল দিতে ৭০টি ইঞ্জিনের জন্য ৬৮০ কোটি টাকার রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইঞ্জিনগুলো ২০২২ সালে চলাচল শুরু করে। এগুলোর ২০ বছর চলার কথা ছিল। ২০২৩ সালে একটি, ২০২৪ সালে আরও চারটি, ২০২৫ সালে মোট ১০টি এবং চলতি বছরের জুনে অচল ইঞ্জিনের সংখ্যা ১৮টিতে পৌঁছায় বলে রেলওয়ের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাব এবং ২০২৪ সালে হুন্দাই রোটেমের কারিগরি সহায়তা শেষ হওয়ায় মেরামত করা যাচ্ছে না। কম্পিউটারভিত্তিক ব্যবস্থা ও নির্দিষ্ট সফটওয়্যার প্রয়োজন হওয়ায় নিজস্ব ওয়ার্কশপে সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন ১১৯টি ইঞ্জিন প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে ৬৫টি। এ কারণে চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে আটটি কনটেইনার ট্রেনের মধ্যে নিয়মিত চলছে মাত্র দুটি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২ হাজার ৮৭৮টি কনটেইনার ট্রিপ থেকে আয় ২৯৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৬৭ ট্রিপে নেমে আয় ১৬৩ কোটি ৩১ লাখ টাকায় নেমেছে।
ইঞ্জিন সংকটে ২০২৫ সালের মার্চ থেকে জুনের মধ্যে পাঁচটি যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ হয়েছে। চট্টগ্রাম ও লাকসাম জংশনের তথ্য অনুযায়ী এসব ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ২০০ যাত্রী চলাচল করতেন।
রেলওয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রগ্রেস রেল তিন বছর ধরে ৩০টি কোরীয় ইঞ্জিনসহ মোট ৭০টি ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ ও কারিগরি সহায়তা দেবে। রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়েছে, তবে অর্থ বিভাগসহ অন্যান্য সংস্থার অনুমোদন বাকি। হুন্দাই রোটেম থেকে দুই দফায় ১০টি ও ২০টি ইঞ্জিন কেনায় অনিয়মের অভিযোগে তিন সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন