শরীয়তপুর সদর উপজেলায় আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও একটি বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের মাকসাহার গ্রামে আদালতের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে এই দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মৃত চান খার ছেলে মুনসুর আলী খানের বিরুদ্ধে। জমি রক্ষা ও অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

​অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৫ সালে মাকসাহার মৌজার এসএ ৭৭ নম্বর দাগ থেকে ১৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন ফুলজান নামের এক নারী। পরবর্তীতে ১৯৫৭ সালে মূল মালিক চান খা ও ফুলজানের জমি মিলিয়ে মোট ২০ শতাংশ জমি কেনেন আলী আহমেদ মোল্লা। দীর্ঘ তিন দশক পর, ১৯৮৭ সালে ওই ২০ শতাংশ জমি ক্রয়সূত্রে হস্তান্তরিত হয় রুদ্রকর হোগলা গ্রামের বাসিন্দা মন্নান বেপারীর স্ত্রী হনুফা বিবির নামে।

​তবে জমিটির পূর্বের ক্রেতারা সময়ে নামজারি বা মিউটেশন না করায়, মূল মালিক চান খার মৃত্যুর পর জমিটি তাঁর ওয়ারিশদের নামে বিআরএস রেকর্ডভুক্ত হয়। বিষয়টি জানতে পেরে আইনি প্রতিকার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন হনুফা বিবি। বর্তমানে জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলায় ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে চান খার ছেলে মুনসুর আলী খান সেখানে পাকা ভবন তুলে জমি দখলের চেষ্টা করছেন।

​অভিযোগকারী হনুফা বিবি জানান, “জমি কেনার কিছুদিন পরই দারিদ্র্যের কারণে আমরা ঢাকায় চলে যাই। সেই সুযোগে নামজারি না থাকায় জমিটি আমার চাচাতো ভাইদের নামে রেকর্ড হয়ে যায়। আমরা অসহায় ও দরিদ্র হওয়ায় তারা জমি না বুঝিয়ে দিয়ে উল্টো জোরপূর্বক পাকা ভবন নির্মাণ করছে। আদালতের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।”

​তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মুনসুর আলী খান বলেন, “আমার বাবা জমি বিক্রি করেছিলেন কি না, তা আমাদের জানা নেই। জমিটি দুই দফায় আমাদের নামেই রেকর্ড হয়েছে। আগে একটি মামলা খারিজ হয়েছিল, পরে নতুন মামলা করা হলে আমরা আদালতে তার জবাব দিচ্ছি। তবে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে আদালত থেকে কোনো লিখিত নোটিশ আমি পাইনি।”

​আদালতে বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত ওই জমিতে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।