নেত্রকোণার দুর্গাপুরে গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুরজামান ফকির আলিফের শরীরে ছয়টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পেয়েছেন চিকিৎসকরা। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার তাকে পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়েছে।

নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালের ময়নাতদন্তে পাঁচটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যাওয়ার চিহ্ন পাওয়া যায়। একটি গুলি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল, যা ময়নাতদন্তের সময় উদ্ধার করা হয়।

চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ জানান, আলিফের বুকের অংশে তিনটি গুলির আঘাত ছিল। এর মধ্যে দুটি গুলি বেরিয়ে গেলেও একটি পিঠে আটকে ছিল। কপালের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া একটি গুলির চিহ্নও পাওয়া যায়।

এ ছাড়া মাথার ওপরের অংশের চামড়া এবং ডান কাঁধের পাশের চামড়া ভেদ করে গুলি যাওয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে। ক্ষতগুলো পর্যালোচনা করে চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছেন, আলিফকে সামনের দিক থেকে পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছিল।

হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেত্রকোণার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, পুলিশ হামলাকারীদের শনাক্তে কাজ করছে এবং দ্রুত তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন।

বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার একটি দোকানে বসে থাকা অবস্থায় গুলিতে নিহত হন আলিফ। তিনি বেসরকারি আইপি টেলিভিশন রূপসী বাংলার নেত্রকোণা প্রতিনিধি ছিলেন। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকেলে তার মরদেহ কলমাকান্দার পোগলা ইউনিয়নের ডিতপুর গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয় এবং জানাজা শেষে দাফন করা হয়।