গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি আদালত প্রাঙ্গণে হাজির হন এবং জামিনের আবেদন করেন।

আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জানান, বুধবার ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমান পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতেই অভিনেত্রী আজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইছেন। জামিন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী বলেও জানান।

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় গতকাল বুধবার পরীমণির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালত। ওই দিন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য ছিল। কিন্তু অসুস্থতার কারণে অভিনেত্রী আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। তাঁর পক্ষের আইনজীবী সময়ের আবেদন করে জানান, অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন পরীমণি। তবে বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁর জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি এই মামলায় পরীমণির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এরপর তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৬ জুলাই সাভারের বোট ক্লাবে মারধর, ভাঙচুর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। মামলার অপর দুই আসামি হলেন পরীমণির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি। অভিযোগে বাদী দাবি করেন, বোট ক্লাবে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে পরীমণি তাঁর দিকে গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন, এতে তিনি আহত হন।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে মামলার কারণে আদালতে যাতায়াত করতে হওয়ায় বিষয়টি তাঁর কাজ ও পারিবারিক জীবনে চাপ তৈরি করছে বলে উল্লেখ করেছিলেন পরীমণি। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, এই আইনি প্রক্রিয়া সারা জীবন চলবে কি না।

আদালতে আত্মসমর্পণের পর পরীমণির জামিন আবেদনের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।