টিনের চালার নিচে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে চলা দুই জমজ বোন রহিমা ও রাবেয়া প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে অভাব কোনো বাধাই নয়। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার এক প্রত্যন্ত পল্লিতে বেড়ে ওঠা এই দুই বোন এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। তাদের এই সাফল্যে আনন্দের জোয়ার বইছে পরিবার ও পুরো এলাকাজুড়ে।

রাজারহাট মীর ইসমাইল হোসেন সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন ৩২৯ জন শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে পাস করেন মাত্র ১৪৩ জন। উপজেলার ১৪টি কলেজের মধ্যে একমাত্র এই দুই জমজ বোনই কলেজ পর্যায়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এর আগে এসএসসিতেও একই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন তারা।

এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে নিঃস্বার্থ পরিশ্রম ও সংগ্রামের এক দীর্ঘ গল্প। তাদের বাবার রয়েছে মাত্র ৫৮ শতক জমি। মা হাঁস-মুরগি পালন করে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়েই কোনোমতে চলত সংসার। পড়াশোনার খরচ জোগাতে দুই বোন নিজেরাই টিউশনি শুরু করেন—একজন সকালে, অন্যজন বিকেলে পড়াতেন। সেই আয়েই চলত বইপত্র কেনা, কলেজে যাতায়াত এবং প্রয়োজনীয় পোশাক-আশাকের খরচ।

চরম আর্থিক সংকটের মধ্যেও পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের শিক্ষকরা। ইংরেজি শিক্ষক শরিফুল ইসলাম সোহেল, আইসিটি শিক্ষক ও কলেজের অধ্যক্ষসহ অন্য শিক্ষকরা তাদের বিনা পয়সায় পড়িয়েছেন এবং বিভিন্ন সময় আর্থিক ও নৈতিক সহায়তা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।

বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর পর এখন তাদের মূল লক্ষ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়া। বর্তমানে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে রংপুরে একটি ভর্তি কোচিংয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

দারিদ্র্য বা প্রতিকূল পরিস্থিতি যে ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের কাছে হার মানে, রহিমা ও রাবেয়ার এই সাফল্য তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।