আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। পাঁচ ধাপে প্রায় ৪ হাজার ৩শ ইউপিতে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম ধাপের ভোট ২১ জানুয়ারি হওয়ার কথা থাকলেও তফসিল ঘোষণা করা হবে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে।

সর্বশেষ প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে কমিশন সভায় এই পাঁচ ধাপের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়। সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ভোটের তারিখ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা ভোটগ্রহণের প্রায় ছয় সপ্তাহ আগে তফসিল ঘোষণা করবেন। সে হিসাবে প্রথম ধাপের তফসিল ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে আসবে।

ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ও শেষ ধাপে ভোট হবে। প্রথম ধাপে প্রায় ৮শ থেকে ১ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সদর উপজেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব ইউপির মেয়াদ শেষ হয়েছে বা দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন বকেয়া রয়েছে, সেগুলোও অগ্রাধিকার পাবে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, প্রথমে সাত ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও সময়ের স্বল্পতার কারণে তা পাঁচ ধাপে নামিয়ে আনা হয়েছে। আগামী ছয়-সাত মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি দুটি ঈদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ও বিশ্ব ইজতেমার সময়সূচি বিবেচনায় নিতে হয়েছে কমিশনকে। সব ধাপের ভোট বৃহস্পতিবার আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ইউপি নির্বাচন ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে কমিশন। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে নির্বাচনি নিরাপত্তার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে চায় ইসি। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং ভোটারদের নিরাপদে কেন্দ্রে যাওয়া-আসা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার।

এদিকে নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হলেও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা নিতে চায় কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, নভেম্বরের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনে সহযোগিতা চাওয়া হবে।

নির্বাচনি আচরণবিধি বাস্তবায়নেও কঠোর অবস্থানে থাকার কথা জানিয়েছে কমিশন। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া কিংবা নির্বাচনি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, ভোটগ্রহণের ৪০-৪৫ দিন আগে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করবেন। অতীতের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এবার নির্বাচনি পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।