রবিবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ ইং, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১লা জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী
রবিবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ ইং

জাজিরায় রুটি পড়ার মাধ্যমে টাকা চুরির অভিযোগ

জাজিরায় রুটি পড়ার মাধ্যমে টাকা চুরির অভিযোগ

শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার পূর্বনাওডোবা ইউনিয়নের শুক্কুর হাওলাদার কান্দি গ্রামের এক নিরীহ লোক মাসুদ হাওলাদার (৫০)কে পরিকল্পিতভাবে একই গ্রামের মোতালেব জমাদ্দার এর বাড়ী থেকে টাকা ও স্বর্নলংকার হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অপ চিকিৎসার মাধ্যমে মাসুদ হাওলাদারকে চোর সাব্যস্ত করে পরিবার ও বংশের সম্মান নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে ওই চক্রটির বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এলাকার মাদবর খবির ফরাজি ও তার লোকদের বিচারের দাবি করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, চুরি হওয়া টাকা ও স্বর্নালংকারের প্রকৃত চোর মোতালেবের ভাগ্নি জামাই। চুরি হবার পর থেকেই মোতালেব ভাগ্নি জামাই পলাতক। এই ঘটনায় মাসুদ হাওলাদার একাধিকবার ন্যায় বিচারের জন্য বর্তমান চেয়ারম্যান লালচান মাদবর এর শরণাপন্ন হলেও সাবেক চেয়ারম্যান খবির ফরাজি বিষয়টি বিনষ্ট করার পায়তারা করার চেষ্টা করেন। ফলে নিরীহ পরিবারটির সঠিক বিচার পাচ্ছে না।

ভুক্তভূগী মাসুদ হাওলাদার জানান, গত শনিবার সকালে স্থানীয় মাতবর সাবেক চেয়ারম্যান খবির উদ্দিন ফরাজি নির্দেশে তার দলবল এর লোকজন মিলে আমাকে এই রুটি পরা খাওয়াতে বাধ্য করেন, রুটি খাওয়া বেশ কিছুক্ষন পর আমি আমার চাষী জমিতে পাট কাটার কাজ করছি ঠিক তখনি মাথাঘুড়ে মাটিতে লুটিয়ে পরি এরপর আমি আর কিছু জানি না। বেশ কয়েক দিন পরে জানতে পারি আমি ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসা অবস্থায় রয়েছি এবং আমি এলাকায় এসে জানতে পারলাম আমাকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার সম্মান ও বংশের সম্মান নষ্ট সহ আমাকে চোর বানিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য এমন কৌশল অবলম্বন নেওয়া হয়েছিলো।

এই বিষয়েগত ০৭ নভেম্বর আমি জাজিরা থানায় ও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি। এখনো প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। তাই প্রশাসনের নিকট তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানাচ্ছি।

ভুক্তভোগী মাসুদ এর স্ত্রী জানান, আমার স্বামী একজন নিরীহ লোক, তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, তাছাড়া আমার অল্প আয়ের সংসার, আমার ৭টি সন্তান রয়েছে, পাশে বাড়িতে চুরি হওয়া টাকা ও গহনার চুরি অভিযোগ দিয়ে সমাজ থেকে বিতরিত করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আল্লাহ রহমতে আসল চোর ধরা পড়েছে। সমাজের মাতবর খবির ফরাজিরা এই সুযোগ গ্রহন করে আমার স্বামীর ও তার বংশের সম্মানহানি করতে চেয়েছিলো।

মাসুদের স্ত্রী আরো বলেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রুটি পরা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পরেন মাসুদ, এর পরই এলাকার মানুষ বিশ্বাস করে চোর ধরা পরছে বলে ডাকতে থাকে, লজ্জার বিষয় হয়ে উঠে তখন এই দুনিয়ায় বেচে থাকার ইচ্ছে ছিলোনা। আমার স্বামী মারা গেলে আমি কি নিয়ে বেঁচে থাকতাম, এখন আমি এর বিচার দাবি করছি,আমার স্বামীর সাথে যারা এমনটা করছেন তাদের বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা গ্রহনে দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয়রা বেশ কিছু ভুক্তভোগী পরিবার জানান, এই খবির ফরাজি ও তার দুষ্ট দলবল নিয়ে এরকম অনেক ঘটনার সাথে জরিত থাকেন, এলাকার নিরীহ মানুষের জমি জমা দখল, মামলা মোকাদমার কথা বলে ভয়-ভীতি, এলাকায় একাধিক সালিস করে দুই পক্ষকে বিপদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, জুয়ার আসর পরিচালনা সহ অনেক অপকর্মে জর্জড়িত এই সাবেক চেয়ারম্যান খবির ফরাজি। তার অত্যাচারে আমরা এখন অতিষ্ঠ, আমরা তার হাত থেকে বাঁচতে জেলা পুলিশ সুপার এর নিকট তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয় জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.মাহবুবুর রহমান জানান, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।