মঙ্গলবার, ২০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
মঙ্গলবার, ২০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

শরীয়তপুর ৩০ টি গ্রাম প্লাবিত, ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী

শরীয়তপুর ৩০ টি গ্রাম প্লাবিত, ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী

শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার ৩০ টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভাঙন দেখা দিয়েছে জাজিরার বড়কান্দি ও দুর্গারহাট এলাকায়। গত ৫ দিনে ওই এলাকার প্রায় ২০০ হেক্টর কৃষিজমি, ৫০০ মিটার পাকা সড়ক ও ১৫ টি বসতবাড়ি পদ্মায় বিলীন হয়েছে। এতে প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুত্রে জানা যায়, নড়িয়া ও জাজিরার পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষার কাজ চলছে। নড়িয়ার সুরেশ্বর থেকে জাজিরার বিলাসপুর পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার তীর রক্ষা কাজে ৪৩ লাখ বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এখন চলছে সিসি ব্লক ফেলার কাজ। নড়িয়ার মুলফৎগঞ্জ এলাকায় কেদারপুর খালের মুখ থেকে জিও ব্যাগ সরে গিয়ে স্রোতের তোড়ে পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে। এতে মুলফৎগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ অংশে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া নড়িয়ার কীর্তিনাশার মুখ থেকে বিলাসপুর পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার নদীর তীর রক্ষা বাঁধ তলিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। পানিতে বাঁধের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যাওয়ায় জিও ব্যাগসহ মাটি ধসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পাউবোর শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, ‘নড়িয়া-জাজিরার পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধের অধিকাংশ স্থানই পানিতে তলিয়ে গেছে। এটা নিয়ে আমরা কিছুটা উদ্বিগ্ন। আর যেসব স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে সেখানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। তিনি আরো জানান জোয়ারের সময় পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০-১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়ন্তী রুপা রায় বলেন, নড়িয়ার পদ্মা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থান তলিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। নড়িয়া পৌরসভার ২ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অন্তত ৯০টি পরিবারের বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে। মানুষের দুর্ভোগ এড়াতে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে। তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।