বৃহস্পতিবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং, ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

শরীয়তপুর পৌরসভা নির্বাচনে চলছে জমজমাট প্রচার, প্রার্থীরা ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি

শরীয়তপুর পৌরসভা নির্বাচনে চলছে জমজমাট প্রচার, প্রার্থীরা ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি

শরীয়তপুর পৌরসভা নির্বাচনে এখন চলছে জমজমাট প্রচার। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারাভিযানে সরগরম শহরের অলিগলি। সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন প্রার্থীরা।

বিশেষ করে কাউন্সিলর প্রার্থীদের ভোট প্রার্থনা নজরে পড়ার মতো। নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে আনতে তারা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ছুটছেন। চষে বেড়াচ্ছেন বাসা-বাড়ি, দোকানপাট, মার্কেট, কাঁচাবাজার। এলাকার উন্নয়নের নানা অঙ্গীকার করছেন।

গণসংযোগ, উঠান বৈঠকসহ নানাভাবে ভোটারদের কাছে টানতে কাজ করছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। নির্বাচনী এলাকায় মিছিল বের করছেন তারা। করছেন মোটর গাড়ি শোভাযাত্রা।

বিতরণ করছেন লিফলেট। শহরের দেয়ালে দেয়ালে শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের পোর্ট্রেট সংবলিত পোস্টার। অনেকে আবার পাট বা প্লাস্টিকের রশিতে পোস্টার গলিতে গলিতে ঝুলিয়ে দিয়েছেন মাথার উপরে।

পোস্টার ব্যানারে এলাকার আকাশ ছেয়ে গেছে। নির্বাচনী ব্যানার-ফেস্টুনেও সয়লাব সব এলাকা। পাড়া-মহল্লায় স্থাপন করা হয়েছে নির্বাচনী প্রচার ক্যাম্প। সেখানে প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ভীড় লেগে থাকে সারাক্ষণ।

ক্যাম্পে চা-বিস্কুটসহ নানা ধরনের খাওয়া-দাওয়া চলছে। সাউন্ডবক্সে বাজছে প্রার্থীর নির্বাচনী গান। ভোট প্রার্থনায় এবার নতুনত্ব এনেছে গান।

জনপ্রিয় বাংলা ও হিন্দি গানের সুর নকল করে প্রার্থীর পক্ষে বানানো ওইসব গান বাজিয়ে ভ্যান, রিকশা, ট্রাকে ছুটছে। অনেকে বিশালকায় সাউন্ড বক্সে বাজাচ্ছেন ওইসব গান।

অবশ্য অতি উচ্চস্বরের ওই গান সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন এখন পর্যন্ত নিয়ে এসেছে উৎসবের আমেজ।

শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসব চিত্র পাওয়া গেছে। এ সময় অবশ্য বিভিন্ন এলাকায় কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজেদের ভালো কর্মের সুনাম করে বেড়াচ্ছেন।

ব্রিজ, বিদ্যুতের খুঁটি, বাসা-বাড়ির দেয়ালসহ দৃশ্যমান সব জায়গায় লাগানো হয়েছে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টার ও ব্যানার। একটির ওপর আরেকটি পোস্টার লাগাচ্ছেন কর্মী ও সমর্থকরা। রোড-ডিভাইডারে, গাছের সঙ্গে এমনকি গণপরিবহনেও পোস্টার লাগিয়ে চলছে নির্বাচনী প্রচারণা।

এছাড়া প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলাসহ আছে আরও নানা অভিযোগ। এসব ঘটনা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী অফিসার ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ করা হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন ভুক্তভোগী প্রার্থীরা।

মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রচারাভিযানে গিয়ে ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি এবং ঘোষনা করছেন জনসাধারণের জন্য বিভিন্ন দফায় ইশতেহার।

ইশতেহারের মধ্যে রয়েছে-আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গতিশীল পৌর প্রশাসন এবং পৌর কার্যালয়কে জনগণের “সেবাঘর” হিসেবে গড়ে তোলা। প্রতিনিধি নির্বাচিত হলে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে শরীয়তপুর পৌরসভাকে বন্যার কবল থেকে সুরক্ষা করবে। পৌর এলাকার সকল রাস্তা সংস্কার, নালা ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, সুপেয় পানির সার্বক্ষণিক সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, তরুণদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবেন, পর্যটন শহরে পর্যটকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শরীয়তপুর শহরকে বিশ্ব তথা বাংলাদেশের মাঝে আরো বেশি করে পরিচিত করানোর উদ্যোগ গ্রহণ, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ডাম্পিং স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ রূপদান, প্রতিটি ওয়ার্ডে মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, শিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের পর্যটনসহ কর্মমূখী বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করে বেকারত্ব দূরীকরণ। তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করে তাদের জন্য ক্রীড়া ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদারকরণ কর্মসূচী গ্রহণ, ‘হেলথ ট্যুরিজম’কে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ গঠনে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমিটি গঠন, পৌরবাসীর নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সকল কার্যক্রম প্রযুক্তিনির্ভর ও ডিজিটালাইজড করা হবে, প্রতিটি এলাকা পর্যায়ক্রমে সিসি টিভির আওতায় আনা হবে, পুরনো সড়ক যথাসম্ভব প্রশস্তকরণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে, শহরের যানজট নিরসনে একাধিক বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হবে, শহরের সড়কে এলইডি লাইট স্থাপনের মাধ্যমে আলোকিত শরীয়তপুর শহর গড়ে তোলা হবে, সকল নাগরিকদের জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে, শহরের যত্রতত্রের সকল ডাস্টবিন পর্যায়ক্রমে তুলে ফেলা হবে, মশক নিধনে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, শহরে আধুনিক কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করা হবে, শহরে একটি নতুন বড় গণকবরস্থান তৈরি করা হবে, পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে নূন্যতম একটি করে আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হবে। যাতে নারী-পুরুষের জন্য পৃথক পৃথক ব্যবস্থা থাকবে, মাদক, ইভটিজিং ও কিশোরগ্যাং দমনে পৌরসভা জিরো টলারেন্সে থাকবে, পৌরসভার তত্ত্বাবধায়নে একটি কার্যকরী মাদক নিরাময় কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে, শহরের মাছ বাজারগুলোকে আধুনিকায়ন করা হবে, ওয়ার্ডে সিকিউরিটি গেইট নির্মাণ করা হবে, ওয়ার্ডকে আলোকসজ্জা করা হবে, ওয়ার্ডে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে অভিভাবক ছাউনি নির্মাণ করা হবে, মিনি শিশু পার্ক স্থাপন করা হবে, আইল্যান্ড ও ফুটপাতের সৌন্দর্য বর্ধন করা হবে, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। সন্ত্রাস ও ছিনতাই প্রতিরোধ করা হবে, বিনোদন, মানসিক স্বাস্থ্য ও শারীরিক বিকাশে সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে, নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে এবং প্রতিটি বাড়িতে পাকা সড়ক নির্মাণ করে দেওয়া হবে, সকল নাগরিকের সরকারি বরাদ্দকৃত সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

আগামী ১৬ জানুয়ারী শনিবার শরীয়তপুর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে মেয়র পদে ৪ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৬ জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর পদে ১২ জন, মোট ৬২ জন প্রার্থী (এর মধ্য পুরুষ কাউন্সিলর পদে কয়েকজন ডামী প্রার্থীও আছে) প্রতিদ্বন্দিতা করছে। ভোট গ্রহন হবে ইভিএম পদ্ধতিতে। শরীয়তপুর পৌরসভায় ৩৮ হাজার ৭৪৭ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্য নারী ভোটার ১৯ হাজার ১৮৮ জন এবং পুরুষ ভোটার ১৯ হাজার ৫৫৯ জন।