সোমবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২২ ইং, ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ই মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
সোমবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২২ ইং

শরীয়তপুরে বাল্যবিবাহ রোধে স্কুল পর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা

শরীয়তপুরে বাল্যবিবাহ রোধে স্কুল পর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা

স্কুল পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করেছেন। ইতোমধ্যে উপজেলার প্রতিটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেছেন। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটিকে বেগবান করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাইসাইকেল দেয়া হয়েছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা বাল্যবিবাহের সংবাদ পেলেই বাইসাইকেল নিয়ে ছুটে যায় বিয়ে বাড়িতে। ইতোমধ্যে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় অর্ধশতাধিক বাল্যবিয়ে বন্ধ করে উপজেলায় আলোড়ণ সৃষ্ঠি করেছে। এবার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়েতুলতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা অডিটোরিয়ামে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত থেকে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে বক্তব্য রাখেন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হেলিম ফকির, সদর উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা আক্তার শিল্পী, পালং মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির হস বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষার্থী অভিভাবকবৃন্দ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউর রহমান বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামজিক ব্যাধি। সমাজ থেকে এ ব্যাধি দূর করতে হলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ আন্দোলনে ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক-জনপ্রতিনিধি সহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে অংশগ্রহন করতে হবে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে পারলেই মাতৃ মৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা সম্ভব। একটি মেয়ের প্রাপ্ত বয়সে বিয়ে হলে সে একটি সুস্থ সবল সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হবে। এ সুস্থ সবল শিশু সুশিক্ষিত হলে দেশ ও জাতি গঠনে সে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এ সময় তিনি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বার বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এ কার্যক্রমে শিক্ষক-ছাত্র সকলের অংশগ্রহন থাকবে। যখন একজন ছাত্র দেখবে তার শিক্ষক টয়লেট থেকে বের হওয়ার পূর্বে টয়লেট পরিস্কার করেছে পরবর্তীতে একজন ছাত্রও টয়লেট থেকে বের হওয়ার পূর্বে টয়লেট পরিস্কার করবে। এ শিক্ষা একজন ছাত্র সকল ক্ষেতেই প্রয়োগ করবে।


error: Content is protected !!