বুধবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২২ ইং, ২০শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
বুধবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২২ ইং

কুমারী পরিচয়ে একাধিক বিয়ে অতঃপর টাকা আদায়

কুমারী পরিচয়ে একাধিক বিয়ে অতঃপর টাকা আদায়

প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে ও প্রেমের সম্পর্ক করে ফাঁদে ফেলে টাকা আদায় করা এ বহুরূপি নারীর নেশা ও পেশা হয়ে দাড়িয়েছে। এর কারণে শরীয়তপুরের যুব সমাজ আতঙ্কিত।
নারী ছলনাময়ী ! এ কথাটি ফুটিয়ে তুলেছে লিছা নামের এক ছলনাময়ী নারী। এক সময় তিনি লিছা, কখনও দেওয়ান লিছা, আবার কখনও মোনালিসা নাম ব্যবহার করে প্রকাশ্যে ও গোপনে একাধিক বিয়ের বন্ধনেও আবদ্ধ হয়েছেন। তার ছলানা ও প্রতারণায় শিকার হয়ে অনেক যুবক সর্বশান্ত হয়েছে। অনেক বিয়ের সম্পর্ক তালাকের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তালাক ছাড়াও এক স্বামীর সংসার ছেড়ে অন্য স্বামীর সংসারে যাওয়ার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।
লিছার একাধিক বিয়ের নিকাহনামা ও প্রত্যারণা মাধ্যমে বিয়ে করে ফাঁসানোর মামলা থেকে জানা যায়, লিছা (২৫) পিতার নাম জয়নাল আবেদীন/এফ এম জয়নাল আবেদীন ব্যবহার করে একাধিক বিয়েতে কাবিন রেজিষ্ট্রি করেছেন। কোথাও তার স্থায়ী ঠিকানা লিখেছেন গঙ্গাধর পট্টি আবার কোথাও উত্তর পালং। ডাকঘর লিখেছেন বিলাশ খান, পালং ও কানার বাজার। প্রতিটি নিকাহ নামায় কণে, কনের পিতা, গ্রাম ও ডাকঘরের নামের ভিন্নতা রয়েছে। স্বামী ও দুই পুত্র সন্তান থাকাস্বত্ত্বেও লিছা নিজেকে কুমারী পরিচয় দিয়ে তার পছন্দের যুবকদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়তেন। সর্বশেষ লিজা কুমারী পরিচয়ে মোনালিসা ছদ্ম নামে শরীয়তপুর পৌরসভার নীলকান্দি গ্রামের হাফিজুর রহমানের পুত্র নাঈমুর রহমানের সাথে বিয়ের পিড়িতে বসেন। অথচ প্রথমে ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষার গ্রামের আলী দেওয়ানের ছেলে খালেক দেওয়ানের সাথে লিছার বিয়ে হয়। সেই কাবিনে লিছার জন্ম তারিখ দেখান ১০-০৭-১৯৮৫। পরবর্তীতে একই উপজেলার পুটিয়া গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে সিরাজুল ইসলামের সাথে দ্বিতীয় বিয়ে উল্লেখ করে লিছার বিয়ে হয়। সেই কাবিন নামায় লিছার জন্ম তারিখের ঘর শূণ্য রয়েছে। এর পরে নাঈমূর রহমানের সাথে তৃতীয় বিয়ে হয় সেই বিয়েছে লিছা/মোনালিসা কুমারী। এবং জন্ম তারিখ দেখানো হয়েছে ১১-০৭-১৯৯৩। যার একই অঙ্গে এতো রূপ সে কী ছলনাময়ী নয়।
লিছার বিরুদ্ধে সর্বশেষ স্বামী নাঈমুর রহমানের দায়ের করা সি আর-৩০৪/২০১৬ (পালং) মামলায় উল্লেখ করেছেন, আংগারিয়া বাজারে নাঈমুরের কাপড়ের ব্যবসা রয়েছে। কাপড় কিনতে এসে লিছা/মোনালিসার সাথে তার পরিচয় হয়। লিছা নিজেকে কুমারী বলে নাঈমুরের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে। ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর তাদের বিয়ে হয়। পরবর্তীতে নাঈমুর জানতে পারে এর পূর্বে লিছার একাধিক বিয়ে হয়েছে। কোথাও তালাক হয়েছে আবার কোথাও তালাক হয়নি। বিষয়টি নিয়ে নাঈমুরের সামাজ বিব্রতবোধ করায় লিছাকে নাঈমুর তালাক দেয়। এবং লিছার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে। লিছার মায়াজাল থেকে শরীয়তপুরের যুবক ও অবিবাহিতরা মুক্তি কামনা করছে।


error: Content is protected !!