সোমবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২২ ইং, ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ই মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
সোমবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২২ ইং

শরীয়তপুরে স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ ৩ জনের ফাঁসির আদেশ

শরীয়তপুরে স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ ৩ জনের ফাঁসির আদেশ

জাজিরায় পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও পরকিয়া প্রেমের টানে ভাড়াটে খুনি দিয়ে স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ ৩ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোছাঃ মরিয়ম মুন মুঞ্জুরি। ২৯ নভেম্বর হাজতী আসামী, রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও আসামী পক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতিতে এ আদেশ দেয়া হয়।
ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী হলেন প্রবাসী নিহত জামাল মাদবরের স্ত্রী মুক্তা বেগম, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরজানাজাত গ্রামের তাজু হাওলাদারের পুত্র বোরহান হাওলাদার ও ভাড়াটে খুনি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালু থানার বাইশদিয়া ইউনিয়নের সাজির হাওলা গ্রামের আবু জাফর মুন্সীর ছেলে মিরাজ মুন্সী। এ মামলায় এজাহার নামীয় অপর আসামী শিবচর উপজেলার চরজানাজাত গ্রামের দলিল উদ্দিন সরকারের পুত্র রিপন সরকার বেকসুর খালাস পেয়েছে।
মামলার এজাহার ও বাদী দানেশ মাদবর সূত্রে জানা যায়, জাজিরা উপজেলার বিকে নগর ইউনিয়নের কদম আলী মাদবর কান্দি গ্রামের আমজেদ মাদবরের পুত্র নিহত জামাল মাদবর। জামাল মাদবর প্রায় ১২ বছর বাহরাইন প্রবাসে ছিল। বিগত ৩ বছরে প্রবাস থেকে জামাল মাদবর ১৮ লাখ টাকা শ্বশুর আমজাদ মোড়ল ও স্ত্রী মুক্তা বেগমের কাছে পাঠায়। সেই টাকা থেকে সাংসারিক কাজে ৬ লাখ টাকা ব্যায় করে। অবশিষ্ট ১২ লাখ টাকার কোন হদিস না থাকায় স্ত্রী ও শ্বশুরের সাথে জামালে দ্বন্দ্ব ছিল। অপর দিকে স্ত্রী মুক্তা বেগমের সাথে তার চাচাতো ভাই দেলোয়ার মোড়লের পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ সব কারনেই ২০১৫ সালের ১৬ আগষ্ট রাত ৩টার সময় নিজ বাড়ির বসত ঘরে জামাল মাদবরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় স্ত্রী ও দুই সন্তান সহ জামাল মাদবর বসত ঘরে ঘুমিয়ে ছিল।
নিহতের স্ত্রী মুক্তা বেগম পরকিয়া প্রেমিক বোরহানের এসএসএম এর ভিত্তিতে দরজা খুলে খুনিদের ঘরে প্রবেশ করিয়ে ভিকটিম জামালকে কুপিয়ে হত্যা করা ও হত্যা কান্ডের সাথে মুক্তার কোন সম্পৃক্ততা আছে কিনা আদালত সে দিকে নজর দিয়ে বিচার কার্য পরিচালনা করে। রাষ্ট্রপক্ষ ২১ জন সাক্ষির মধ্যে ১৫ জন সাক্ষির সাক্ষ্য গ্রহন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ আসামীদের সম্পৃক্ততা সন্দেহাতিত ভাবে প্রমাণ করতে পারায় আদালত আসামীদের ফাঁসির আদেশ প্রদান করেন। আসামী মুক্তা বেগম উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পেয়ে পলাতক রয়েছে। আসামী মিরাজ মুন্সী হাজতে রয়েছে।
মামলার বাদী দানেশ মাদবর বলেন, আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। অভিযুক্ত আসামী রিপন সরকারকে বেকসুর খালাস দেয়ায় আমরা উচ্চ আদালতে আপীল করবো।
মামলার আসামী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট বজলুর রশিদ আকন্দ ও আবুল কাসেম সরকার বলেন, আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমরা উচ্চ আদালতে যাবো। আমরা আশাবাদি আসামীরা উচ্চ আদালত থেকে মুক্তি পাবে।
রাষ্ট্রপক্ষের পিপি এডভোকেট মির্জা হজরত আলী বলেন, মামলার বাদীপক্ষ তাদের স্বজন হারানোর বিচার পেয়েছে। দৃষ্টান্তমূলক এ রায়ের মধ্য দিয়ে আইনী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান সামাজিক অবক্ষয় রোধে এ রায় সমাজে ইতিবাচক প্রতিফলন ঘটাবে।


error: Content is protected !!