বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২০ ইং, ১লা শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২০ ইং

গোসাইরহাটে উপজেলা ভবন নির্মানে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে

গোসাইরহাটে উপজেলা ভবন নির্মানে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে

বাংলাদেশ সরকার বারবার টেকসই উন্নয়নের কথা বলে যাচ্ছে কিন্তু কে শোনে কার কথা। সেরকমই একটি ঘটনা ঘটেছে শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলায়। উপজেলা ভবন নির্মানের শুরুতেই উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ।
গোসাইরহাট এলজিইডি শাখা সূত্রে জানা যায়, গোসাইরহাট উপজেলার পুরাতন ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৬ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা ব্যায়ে একটি ৬ তলা ভবনের ফাউন্ডেশন দিয়ে ৪ তলা সম্পূর্ন নির্মানের প্রয়োজনে মেসার্স প্রগতি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করা হয়। এবং উপজেলা ভবন নির্মানের কাজ শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয় জানুয়ারী ২০১৯ সালের শেষের দিকে। ভবনটি নির্মানের প্রয়োজনে মাটি পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) শেষে ডিজাইন তৈরী করে, এর আগে উপজেলা ভবন নির্মানের নির্ধারিত স্থানে পুকুর ভরাট করা জায়গাটিতে ৪৫ ফুট লম্বা ১৭৯ টি পাইল বসানোর প্রয়োজনীয়তা বোধ করে। পাইল তৈরী বসানোসহ ৬ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ৪ তলা ভবন সম্পুর্ন করার জন্য টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যেমে মেসার্স প্রগতি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানক এ কাজটি দেওয়া হয়। এ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী গোসাইরহাট উপজেলার মোঃ মাসুদ মিয়া।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ভবনের সম্পূর্ন কাজ শেষ করতে ১৫ মাস সময় দেওয়া হয় তাই পাইল তৈরী করে বসানোর জন্য কাজ শুরু করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। আর সেখানেই বাঁধে যতো গন্ডগোল।
নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে আর সি সি পাইল তৈরী করায়, পাইল বসানোর মেশিন দিয়ে কাজ করতে গেলে ৪৫ ফুট পাইল ২০/২৫ ফুট ভেতরে ঢুকেই মেশিনের আঘাতে ১৫/২০ ফুট পাইল উপরেই ভেঙ্গে গুড়ো হয়ে যাচ্ছে যার কারণে এ স্থানটিতে পাইল ঠিকঠাক না বসাতে পারলে ৬ তলা ভবনটি নির্মান করা হবে বিপদজনক।
এতে স্থানীয় জণসাধারণ মনে করছেন ৬ তলা ১ টি ভবন নির্মানের শুরুতে পাইল নির্মানে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে পাইল তৈরী করার কারনেই হয়তো এরকমভাবে মাঝামাঝি থেকে পাইল ভেঙ্গে পড়ছে। এরকমভাবে এখনই পাইল ভেঙ্গে পড়লে পুরো ভবন নির্মানেও ব্যাপক অনিয়ম হওয়ার কথা আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোঃ মাসুদ মিয়া পাইলগুলো ভেঙ্গে যাওয়ার বিষয়টিকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু মনে করছেন না বলে মুঠোফোনে জানান, প্রতিবেদককে।
এদিকে গোসাইরহাট উপজেলা এলজিইডি শাখার প্রকৌশলী দশরথ বিশ্বাস বলেন, পাইলগুলো ভেঙ্গে যাওয়ার কারন হলো ২০/২৫ ফুট মাটির নিচে স্তর শক্ত হয়ে যাওয়ায় পাইলগুলো নিচে না ঢুকে এরকমভাবে ভেঙ্গে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, যদিও এখানে ৪৫ ফুট ১৭৯ টি পাইল ধরা হয়েছে পুরো পাইলগুলো বসানোয় সমস্যা হলেও এতে ৬ তলা ভবন নির্মানে কোনো সমস্যা হবে না।