সোমবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২২ ইং, ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ই মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
সোমবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২২ ইং

গোসাইরহাটে শিক্ষিকার লাঠির আঘাতে ১১ ছাত্র অসুস্থ

গোসাইরহাটে শিক্ষিকার লাঠির আঘাতে ১১ ছাত্র অসুস্থ
গোসাইরহাটে শিক্ষিকার লাঠির আঘাতে ১১ ছাত্র অসুস্থ

এক সহকারী শিক্ষিকার লাঠির আঘাতে ১১ ছাত্র আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১০ এপ্রিল বুধবার দুপুরে গোসাইরহাট উপজেলার ৭৫নং প্যাদা কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মরিয়ম বেগম ব্যক্তিগত কারনে ছাত্রদের পেটায়। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষর্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিচারের দাবীতে ১১ এপ্রিল দুপুরে বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। ঘটনা পরবর্তী কোদালপুর ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও গোসাইরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
স্থানীয় সূত্র ও চতুর্থ শ্রেণীর নির্যাতিত ছাত্র সিয়াম, মাসুম, শাহিন ও প্রত্যক্ষদর্শী আমরিন জানায়, বুধবার টিফিনের পর সকলে শ্রেণী কক্ষে ছিল। এ সময় সহকারী শিক্ষিকা মরিয়ম বেগমের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মোস্তাকিন লাঠি হাতে নিয়ে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রদের পেটানোর জন্য তাড়া করে। তখন ছাত্ররা বেঞ্চের উপর উঠে দাঁড়ায়। মোস্তাকিন সেখানেও লাঠিচার্জ করে। তখন ছাত্ররা লাফিয়ে বেঞ্চ থেকে নামে। এ সময় শিক্ষিকার ছেলে মোস্তাকিন ব্যাথা পায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্র শাহিনকে লাঠি আনতে বলে শিক্ষিকা মরিয়ম। শাহিন একটা দূর্বল লাঠি আনলে শিক্ষিকা তা ফেলে দিয়ে নিজের পছন্দমতো লাঠি এনে শাহিনকে সহ শ্রেণী কক্ষে থাকা ১১ জন ছাত্রকে বেদম মারপিট করে। এতে সিয়াম ও মাসুম গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়। গুরুতর আহতদের স্থানীয় ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছে।
আহত সিয়ামের মা সালমা বেগম বলেন, মরিয়ম ম্যাডাম প্রতিদিন তার ছেলেকে নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে তার ছেলের সেবাযতœ করায়। তার ছেলে স্কুলের ছাদে উঠে যায়। খুব দুষ্টামি করে। বুধবার ম্যাডামের ছেলে মোস্তাকিন চতুর্থ শ্রেণীতে লাঠি নিয়ে গিয়ে ছাত্রদের পেটায়। তখন ছাত্ররা ছুটাছুটি করলে ম্যাডামের ছেলে ব্যাথা পায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে নিজের পছন্দের লাঠি দিয়ে আমার ছেলেকে পেটায়। আমার ছেলের বাহু, পিঠসহ সারা শরীরে পেটায়। পড়ার জন্য বা বেয়াদবির জন্য আমার ছেলেকে পেটালে আমার কোন আপত্তি থাকতো না। ম্যাডাম মরিয়ম বেগম উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে আমার ছেলেকে মেরেছে। আমি স্থানীয় মেম্বার, এসএমসি সভাপতি ও স্থানীয়দের বিষয়টি জানিয়েছি। থানা থেকে পুলিশ ও শিক্ষা অফিস থেকে স্যারেরা আসছিল তাদের কাছে ম্যাডামের বিচার চেয়েছি। আমি সঠিক বিচার না পাইলে মামলা করব।
বিদ্যালয়ের সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত ম্যাডামের বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ করে। তখন শিক্ষার্থীরা জানায়, এ ম্যাডাম শিক্ষার্থীদের সাথে খুব খারাপ আচরণ করে। ছেলেকে নিয়ে স্কুলে আসে। ছেলেও খুব যন্ত্রনা করে। ছেলে সকল শিক্ষার্থীদের মারে। ম্যাডাম ছেলের গোসল, ময়লা কাপড় ধোয়া ও মলমূত্র পরিস্কারের কাজে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে। ম্যাডামের কথামতো কাজ না করলে পেটায়। আমরা এ ম্যাডাম চাই না। এ ম্যাডামের বিচার চাই।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষিকা মরিয়ম বেগম বলেন, চতুর্থ শ্রেণীতে ১৭ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়। ২ জন অনিয়মিত। উপস্থিত ছাত্ররা শ্রেণী কক্ষে দুষ্টামি করছিল। তখন একটা দূর্বল লাঠি দিয়ে সবাইকে আস্তে করে পেটাই। যাতে কারো কোন অভিযোগ না থাকে। এর মধ্য থেকে আমার চাচাতো ভাই সিয়ামের একটু জোরে লাগে। তবে তেমন কোন সমস্যা হয়নি। আমার ছেলেকে স্কুলে আনা হয় না।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখব। সত্যতা পেলে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাসপেন্ড করা হবে।


error: Content is protected !!