বৃহস্পতিবার, ২৯শে জুলাই, ২০২১ ইং, ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ্জ, ১৪৪২ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে জুলাই, ২০২১ ইং

শরীয়তপুরে খাল দখল করে ইমারত নির্মাণ, জলাবদ্ধতায় জনদূর্ভোগ

শরীয়তপুরে খাল দখল করে ইমারত নির্মাণ, জলাবদ্ধতায় জনদূর্ভোগ

শরীয়তপুরে জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের কাজিকান্দি গ্রামে খাল দখলের মহাউৎসব চলছে। জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভূঁইয়া বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫ টি বাঁধ নির্মাণ করে গড়ে ওঠেছে ইমারত, গরুর খামারসহ অন্যান্য স্থাপনা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় মাস্টার বাচ্চু বেপারী, বাদশাহ বেপারী, জুলহাস বেপারী, মিলন বেপারীসহ অন্যান্যরা খালটির উপর ৫ থেকে ৬ ইঞ্চি পরিমাণ পাইপ দিয়ে মাটি দিয়ে ভরাট করে ইমারত, গরুর খামার ও বাড়িতে ঢোকার বিকল্প রাস্তা নির্মাণ করেছে। এতে জলাবদ্ধতায় বন্দি হয়ে পড়েছে গ্রামের প্রায় ৫০ টি পরিবার। এসব বাঁধের কারণে জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কাজী কান্দির পাকা রাস্তাটির এখন বেহাল দশা।

স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, তারা প্রভাবশালী এসবের প্রতিবাদ করতে গেলে গ্রামে থাকাই অনিশ্চিত হয়ে পরবে আমাদের। সত্তর বছর বয়সী একাধিক ব্যক্তি দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন,, জন্ম থেকে দেখে আসা খালটি এখন মরা খাল। এই খাল দিয়ে আগে নৌকা চলত, চাষীরা তাদের ফসল আনা-নেওয়া করত। অনেকে এই খাল থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত, এসবই এখন বন্ধ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গৃহিনী দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন,, দেখেন আমি রান্না করতেছি কেমন করে, আমার চুলায় পানি উঠেছে, বিকল্প চুলা তৈরী করে আমি রান্না করছি এই করোনা কালে। করোনায় সবাই বাড়িতে অবস্থান করছে বলে, বারবার খাওয়া হচ্ছে সবারই, কষ্টে আছি আমরা বৌ-ঝিরা। একেই তো বারবার রান্না করতে হচ্ছে, তার উপর খালে বাঁধ দেওয়ার কারণে চুলায় পানি, আমি চোখে কানে কিছু দেখি না।

মাস্টার বাচ্চু বেপারী দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, খালের জমি আমাদের নিজস্ব জমি, নিজেদের জমিতে আমরা বাঁধ দিয়ে আমাদের প্রয়োজনীয় কাজ করেছি। অন্যদিকে বাদশাহ বেপারী বলেন, সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে গরুর খামার করা আমার অন্যায় হয়েছে, প্রশাসন চাইলে আমি বাঁধটি ভেঙে দেব। এসময় মিলন বেপারী সাংবাদিকদের সাথে উত্তেজিত হয়ে বলেন, ইএনও, এসিল্যান্ড সব দেখা আছে আমাদের, যা পারেন করেন আপনারা।

এবিষয়ে জয়নগর ইউপির ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বার ইনসান দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, আমি জানি খালটি সরকারি, যদি কেউ নিজস্ব দাবী করে তাহলে আমার নকশা দেখতে হবে। নকশা দেখে আমি প্রশাসনকে জানাতে পারব।

এবিষয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আশরাফুজ্জামান ভূঁইয়া দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, বিষয়টি আপনাদের থেকেই প্রথম শুনলাম, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।