সোমবার, ৮ই আগস্ট, ২০২২ ইং, ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১০ই মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
সোমবার, ৮ই আগস্ট, ২০২২ ইং

পদ্মা সেতু : সমৃদ্ধির দক্ষিণা দুয়ার

পদ্মা সেতু : সমৃদ্ধির দক্ষিণা দুয়ার

॥কামরুল হাসান সোহেল॥

২৫ শে জুন ২০২২ খ্রিস্টাব্দ তারিখে নিজস্ব অর্থায়নে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বাঙালির আত্মবিশ্বাসের সেতু ‘পদ্মা সেতু’। দক্ষিণাঞ্চল সহ বাংলাদেশের কোটি বাঙালির প্রাণের উচ্ছ্বাস এই পদ্মা সেতুকে ঘিরে।এই বাধভাঙ্গা তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের পিছনে প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির মেলবন্ধন। দুদিন আগেও মাঝিরঘাটে একটি স্পিডবোটের সাথে লঞ্চের সংঘর্ষে ১৩ জন যাত্রী নিয়ে স্পিডবোট ডুবে যায়! স্থানীয়দের সহায়তায় ১৩ জন যাত্রীকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।নিশ্চিতভাবে এই বেঁচে যাওয়ার খবর আমাদের মনে প্রশান্তি এনে দেয়। কিন্তু সবসময় আমরা এই প্রশান্তির খবর পাই না। বিগত সপ্তাহে দুটি ফেরীর সংঘর্ষে এক জন নিহত এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। ২০১৪ সালের ৪ঠা আগস্ট প্রায় আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় পিনাক-৬ নামক লঞ্চ। সরকারি হিসাবে সে সময় ৪৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় এবং নিখোঁজ থাকে ৬৪ জন। এছাড়াও পদ্মায় প্রাণহানির খবর পাওয়া হরহামেসাই পাওয়া যায়।প্রিয়জন হারানো পরিবারগুলো খরস্রোতা পদ্মার স্বজন কেড়ে নেয়ার স্মৃতি বয়ে বেড়ায় যুগের পর যুগ।এখন পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সমৃদ্ধির ছোঁয়া পাবে। এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ভাবনা তারা আর পদ্মার ঢেউয়ের তীব্রতায় স্বজন হারাবে না,রাত বিরাতে অসুস্থ হলেও তারা নিজেরা এবং তাদের পরিবার দ্রুতই জরুরি চিকিৎসা সেবা পাবে।সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে পদ্মা পাড়ে সংকটাপন্ন রোগীবহনকারী এম্বুলেন্সের গাড়ি আর দেখতে হবে না।

কৃষিক্ষেত্রেও দেখা যাবে সমৃদ্ধির ছোয়া! কৃষিনির্ভর দক্ষিণাঞ্চল থেকে সহজেই কৃষি পণ্য পৌঁছে যাবে ঢাকা সহ সারাদেশে। কৃষক পাবেন পণ্যের ন্যায্য মূল্য এবং ক্রেতা পাবেন সতেজ ও টাটকা পণ্য। উদাহরণ স্বরূপ পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত জাজিরা উপজেলায় প্রচুর পরিমানে পিয়াজ,রসুন, ধনিয়া ও কালোজিরার মত শস্যের আবাদ রয়েছে।পিয়াজ একদিকে যেমন আমদানি করতে হয়, অন্যদিকে পিয়াজ উৎপাদন করে প্রান্তিক চাষিরা ন্যায্য মূল্য পায় না। এখন এই কৃষকরা সহজেই তাদের পণ্য নিয়ে নিজেরাই ঢাকামুখী হতে পারবেন। নিত্যপণ্য সহ সকল কৃষিপণ্য রাতারাতি চলে আসবে ঢাকা। কৃষির মতো একই রকম উন্নয়ন হবে মৎস্য এবং পল্ট্রি শিল্পে। সামুদ্রিক মাছ এবং সাধু পানির মাছের ট্রাক আর দিনের পর দিন ফেরী ঘাটে অপেক্ষা করবে না।

ইতোমধ্যেই সমৃদ্ধির ছোঁয়া লেগেছে পরিবহন খাতে।তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন,বাস,ট্রাক,পিকআপ সহ অন্যান্য পরিবহন। এই শিল্পের বিকাশে একদিকে যেমন জিডিপি বাড়বে,অন্যদিকে বাড়বে কর্মসংস্থান।পদ্মা সেতুর উভয় প্রান্তে গড়ে উঠছে ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান। ইস্পাত, সিমেন্ট, পোশাক শিল্পের জন্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে পদ্মাসেতু। এতে মানুষ ঢাকামুখী হওয়ার পরিবর্তে নিজ ঘরে ফিরবে এবং ঢাকা শহরের উপর চাপ কমবে।ইতোমধ্যেই পদ্মা সেতু হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র এবং পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় উদ্যোক্তাদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। সর্বোপরি পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রার সকল ক্ষেত্রে সমৃদ্ধির দক্ষিণা দুয়ার হিসেবে প্রশান্তি এনে দিবে।


error: Content is protected !!