শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার সরকারি সামসুর রহমান কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়ামিন শিকদার ও ছাত্রলীগ নেতা মারুফ শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে ৬ ছাত্রীকে ইভটিজিং করার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভুক্তভোগী এক কলেজ ছাত্রী ইয়ামিন শিকদারসহ ১০ জনকে আসামী করে গোসাইরহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পরে বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মামলার আসামী বখাটে আরিফুল ইসলামকে (২১) আটক করেছে পুলিশ। আটক আরিফুল ওই কলেজের রাস্ট্রবিজ্ঞান অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। এর আগে মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ছাত্রীরা।
এ বিষয়ে গোসাইরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা সোহেব আলী বলেন, গত সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আসামীরা সরকারি সামসুর রহমান কলেজের কয়েকজন ছাত্রীকে চারদিক ঘিরে ধরে বিভিন্ন ধরনের অঙ্গভঙ্গি করে কু-প্রস্তাব দেয়। এক ছাত্রীর ওড়না ধরেও টান দিয়েছে বখাটেরা। ছাত্রীরা প্রতিবাদ করলে তাদের বোমা মারার হুমকিও দেন বখাটেরা। এ ঘটনায় এক ছাত্রী থানায় এসে মামলা করেছে। মামলার পর আরিফুলকে আটক করি। আর অন্যান্য আসামীদের আটকের জোড় প্রচেষ্টা চলছে।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফজলুল হক মোল্লা বলেন, ৬ ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের ঘটনায় বুধবার পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি ঘটন করা হয়। যা দুই কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করা প্রতিবেদন জমার জন্য বলা হয়। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আমার কাছে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। ছাত্রীদের ইভটিজিংয়ের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আমরা বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমরা ব্যবস্থা নেব।
গোসাইরহাট উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আজমল হোসেন নয়ন বলেন, ইভটিজিংয়ের বিষয়ে আমরা তদন্ত করবো। যদি ইয়ামিন সিকদারের এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
পুলিশ, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী ছাত্রীদের সূত্র জানায়, গত সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সরকারি সামসুর রহমান কলেজে সাংষ্কৃতিক ও ক্রিড়া অনুষ্ঠান চলছিল। দুপুরে ক্যান্টিনের সামনে আম গাছের নিচে বখাটে ছেলেরা আড্ডা দিচ্ছিল। তখন ক্যান্টিনে নাস্তা খেতে যাওয়ার সময় ছাত্রীদের পথ গতিরোধ করে ইয়ামিন শিকদার (২৫) ও মারুফ শাহরিয়ার (২০) নেতৃত্বে কয়েকজন বখাটে ছাত্র। এ সময় তারা ছাত্রীদের বাজে প্রস্তাব করেন এবং একজনকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। শুধু তাই নয়, এক ছাত্রীর ওড়না ধরে টান দেন বখাটেরা। আবার সেগুলো মোবাইলে ভিডিও চিত্র ধারণ করে। ছাত্রীরা প্রতিবাদ করলে তাদের বোমা মারার হুমকিও দেন বখাটেরা।
ইয়ামিন সরকারি সামসুর রহমান কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ওই কলেজের অনার্স রাস্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। আর মারুফ (২০) কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সদস্য। তিনি ওই কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।

মন্তব্য করুন