চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) চাকসু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী হলে উত্তেজনার এক পর্যায়ে উপ-উপাচার্য (প্রোভিসি) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিনকে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে ছাত্রদল-সমর্থিত নেতাকর্মীরা। বুধবার গভীর রাতে আইটি ফ্যাকাল্টির একটি কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোহরাওয়ার্দী হলের ফলাফল ঘোষণার পর কিছু প্রার্থীর অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে উপস্থিত হন প্রোভিসি। কিন্তু ছাত্রদল-সমর্থিত প্রার্থী ও সমর্থকেরা তাকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং পরে একটি কক্ষে আটকে রাখেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল সূত্র জানায়, রাত আড়াইটার দিকে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা অধ্যাপক কামাল উদ্দিনকে নিরাপদে বের করে আনেন। তবে এ সময় নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রোভিসিকে বের করে নেওয়ার সময় কয়েকজন ছাত্র গালাগালি ও অশালীন মন্তব্য করেন, যা শিক্ষকদের প্রতিও directed ছিল।
একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “একজন সিনিয়র শিক্ষককে অবরুদ্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্যাম্পাসে সহনশীলতার রাজনীতি ফিরতে শুরু করেছিল, কিন্তু এই ঘটনায় আমরা হতাশ।”
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “একটি ছাত্র সংগঠনের ধারাবাহিক গর্হিত আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই। শিক্ষকদের সঙ্গে এমন আচরণের জন্য অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে। তারা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠছে।”
চবিতে দীর্ঘ এক যুগ পর অনুষ্ঠিত চাকসু নির্বাচনে শিবির-সমর্থিত ‘সম্প্রীতি শিক্ষার্থী জোট’ ২৬টি পদের মধ্যে ২৪টিতে বিজয়ী হয়েছে। ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন ইব্রাহিম রনি, জিএস সাঈদ বিন হাবিব। একমাত্র এজিএস পদে ছাত্রদল-সমর্থিত প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বিজয়ী হন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শিবির-সমর্থিত শিক্ষার্থীদের সংগঠিত প্রত্যাবর্তন ক্যাম্পাসে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। অন্যদিকে, ছাত্রদলের আচরণ তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
চবি প্রক্টরিয়াল বডির এক সদস্য বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শিক্ষকদের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ মেনে নেওয়া হবে না। প্রশাসন শূন্য সহনশীল নীতি অবলম্বন করবে।”

মন্তব্য করুন