• ব্রেকিং নিউজ

    সাহিত্য পাতা, ২৪ ফেব্রুয়ারী

    প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সময়: ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ 199 বার

    সাহিত্য পাতা, ২৪ ফেব্রুয়ারী

    যদি বাঁশি আর না বাজে
    -খান মেহেদী মিজান

    যদি বাঁশি আর না বাজে
    থেমে যায় সব চেনা সুর
    তবে কি আসবে না কেউ জলের ঘাটে ?
    যদি সানাইয়ের সুর আর না বাজে
    তবে কি কাঁদবো না কেউ নৈঃশব্দে
    স্বজন ছাড়ার বেদনায় ?

    যদি আকাশ তার নীল হারায়
    একটি তারাও আর না জ্বলে
    ধ্রুপদী চাঁদের পাশে
    তবে কি বসবে না কেউ বাতায়নে
    আসবে না কেউ গোপন অভিসারে ?
    যদি কোকিলের কুহুতন থেমে যায়
    তবে কি কোকিলের আসবে না ফাল্গুনী বসন্ত ?
    ফুটবে না ফুল ? ভরবে না
    সবুজ পাতায় বৃক্ষরাজি ?

    যদি কন্টকাকীর্ণ হয় চেনা পথ
    তবে কি পৌঁছাবে না কেউ
    প্রিয়জনের গন্তব্যে ?


     

    নিজেই বিচারক
    -এ এইচ নান্নু

    আমি কলেমা পড়ি ভাব প্রয়োগ হয়না অন্তরে
    আমি নামাজ আদায় করি দেখতে পাইনা সৃষ্টিকর্তাকে
    আমি ফল পাইনা ইবাদতে মুসলমান দাবি করি
    আমি দুরূদ ও সালাম পড়ি-
    পৌছায় না নবীজির রওজা মোবারকে
    আমি মোহাম্মদী বাদে শুধু ইসলাম পালন করি
    আমি আদি পিতা, মুসলমান জাতির পিতাকে চিনি না
    আমি জুয়াখোর বিচার করি নেশাখোরের
    আমি বদমাইশ বিচারক হই জুয়াখোরের
    আমি বেঈমান সালিশি করি বেপর্দা নারীর
    আমি যে আমার দোষ দেখিনা বিচার করবে কে ?
    আমি ধনকুবের, ভয় সালাম দেয় মুরুব্বীরা
    আমি সন্ত্রাসী আমাকে ভয় পায় ভদ্রলোকে
    আমি দুর্নিতীবাজ সমাজে প্রভাবশালী নিতিবান
    আমি ঘুষখোর গরীবের মুখে অন্ন তুলে দেই
    আমি এজিদি ইসলাম পালন করে ফতুয়া দেই
    আমি অন্যের হক নষ্ট করি সমাজে সম্মানী ব্যক্তি
    আমি আমার ঘরের বিচার করতে পারি না ন্যায় বিচারক
    আমি আমাকে শুদ্ধ করি না আমি নাকি সৎ ব্যাক্তি
    আমার অসত্যের দাপটে সত্য পলায়ন করেছে
    আমি অন্ধ, বধির আমার ভেতরে নাকি আলো আছে
    ছিঃ ছিঃ আমি সর্বোচ্চ নোংরা ব্যক্তিত্ব এই সমাজের
    যিনি বুঝতে পেরেছেন তিনি সুধরে নিবেন নিজেকে।


     

    মায়ের আদর
    -শেখ জিয়াউল হক

    লোমশীহরে ওঠে সেই কথা যখন পড়ে মনে
    খেলেছিল খেলা আঁধার আমার শনে
    বহুদূর দূরান্তে হাট বাজার পৌঁছাতে দেরী
    হইলো না স্বদায় মা ছিল একলা বাড়ী
    সন্ধ্যায় সাজিয়ে ঝড় আকসাত
    চারিদিকে ছলছিল বজ্রাঘাত
    ঝলসে যাওয়া বিজলী হাসি
    ছুটলো টানে মার ছেলে উদাসী
    তারি আলোকে ভীতু সন্তস্থ পথচলা
    অস্পষ্ট সামনে হাটছিল সেও একলা
    কিছু দূর যেতেই হঠাৎ গেলো হারিয়ে
    এদিকে ঝড়ের গতি সীমাকিন্তু বাড়িয়ে
    বাতাসের দাপটে নুয়ে পড়ে
    আঁকাশ ছোঁয়া বড় সব গাছটা
    পথচলা ভীষণ কষ্ট ঘন আধারে
    আঁকা বাঁকা ইট ভাঙ্গা রাস্তা
    যাত্রা জোর কদমে শুরু করি
    বাতাস যখন কিছুটা কমলো
    এবার মায়ের কাছে পৌছাতে পারি
    বৃষ্টি আড়মোড়া ভেঙ্গে যদিও পড়লো
    এমনি করে হাজির হয়ে হইলো অবসান
    উদাসী ছেলে মহাখুশি পেয়ে মায়ের ঘ্রাণ
    চাচীর কাছে মাকে পেয়ে মা’ই আমার প্রাণ
    বাংলাভাষা বুঝতে দেরী।


     

    একুশ আমার
    -সব্যসাচী নজরুল

    একুশ আমার রাষ্ট্রভাষা
    দেশ জনতার গর্ব
    একুশ আমার বোলে ঠাসা
    কে করে তা খর্ব।

    একুশ আমার ভাইয়ের লাশে
    রক্তে রাঙানো মাস
    একুশ আমার সারা বিশ্বে
    নির্মম এক ইতিহাস।

    একুশ আমার মায়ের বুকে
    ছেলে হারানো শোক
    একুশ আমার বাবার চোখে
    আজন্ম লেখা দুঃখ।

    একুশ আমার স্বাধীনতার
    প্রথম ফোটা ফুল ই
    একুশ আমার শিশুর মুখে
    মা ডাকা মধুর বুলি।


     

    বিদায় বীণা
    -সুধাংশু কুমার দাশ

    বিদায় বীণা বাঁজিল যে তাই
    দিলাম দুয়ার খুলে,
    বল কত দূরে যাবে গো বন্ধু
    যাবে কি আমাকে ভুলে ?
    বিদায় বেলা দিবার মত
    সম্বল কিছু নাই
    বুক ভরা শুধু ভালোবাসা আজ
    তোমাকে দিলাম তাই।
    ভালোবাসা ছাড়া এমন কি আছে
    যা দিব তোমাকে আমি ?
    আমার জীবনে নেই কিছু আর
    এর চেয়ে বেশী দামী।
    হৃদয়েতে তুমি নিয়েছ যে ঠাঁই
    স্মরি তাই ক্ষণে ক্ষণে,
    এসো মোর ঘরে বন্ধু তুমি
    পড়ে যদি কভু মনে।


     

    চকবাজারের শোকাহত
    -রুদ্র মো: সাকিব মিঞা

    শিশির স্নিগ্ধ ভেজা ফাগুনে
    শান্তি নষ্ট করেছে চকবাজারের আগুনে
    চকবাজারের দাবদাহে আজ
    পুরান ঢাকার জরাজীর্ন সাজ
    ছেলে হারা বাবার মনে
    সুখ শান্তি সব করেছে নষ্ট
    সন্তান হারা মায়ের বুকে
    বেধে দিয়েছে যত কষ্ট।
    ভাই হারা বোনের বুক
    খালি খালি লাগে
    স্বামী হারা ধর্মীনীর বুকে
    বেদনা মনে জাগে।
    চার বন্ধু নিয়মিত আড্ডা দিচ্ছে
    ছাদ দেয়ালের নীরে
    বাবার কাছে ছেলের আবদার
    তবে বাবা আর আসেনি ফিরে।
    ছেলে পড়ে নর্থ সাউথে
    পাচ্ছে না তার লাশ
    একটু হলেও মাংস চায়
    নাই মায়ের এমন ইতিহাস।
    কতো কান্না কতো বেদনা
    চকবাজারের আগুন ঘিরে
    কষ্টের দুঃখের ছাপ দিয়েছে
    দেশের বুক জুড়ে।


     

    চিৎকার
    -মোঃ সফিজদ্দিন

    আজ কেন এত ব্যস্ততা?
    হে পাষান হৃদয় তোমাকে কে বেঁধেছে ?
    তুমি যে আজ হাহাকারে লিপ্ত,
    তোমায় শান্তনা দেবার মত কিছু নেই।
    আছে শুধু ভাষা হৃদয়ের লক্ষ কোটি আশা।
    ছিল যে এক সন্তান বীর সোনালী,
    সবার দুলাল সেই বীর যোদ্ধা,
    শায়িত ঢাকার রাজপথে।
    দিল প্রাণ অকাতরে ভাষার জন্য।
    যে ভাষায় আছে মধু মাখা বাণী,
    বিশ্ববাসীর নিকট পরিচিত জানি।
    রক্ত বয়ে নদী হয়ে ধাবিত পথে।
    লক্ষ শহীদের শব গেল ভেসে।
    লক্ষ কোটি “মা” সন্তান হারা,
    আমরা ব্যথায় মুহ্যমান।
    ব্যথার সাগর যদিও উতালা,
    তবুও আমরা গর্বিত ও ধন্য।


     

    ভাষার মুল্য দাও
    -এ এইচ নান্নু

    মোটা ধানের চাল
    জাতাঁয় ভাঙ্গা ডাল
    পুকুরের জিওল মাছ
    খাওয়ায় ছিলনা বাছ।
    নদীর তীড়ে খেলা
    কলা গাছের ভেলা
    ঘুঘু ধরার ফাঁদ
    সবই ছিল স্বাধ।
    গাদাঁ ফুল বাল্য চুরি
    ডালা সাজানো ফেব্রুয়ারী
    বাবার ছিল শাসন
    পেয়াজুতে যেমন বেসন।
    প্রগতিশিল লেখক কবি
    হাতে অংকনে ছিল ছবি
    দুরপথ হেটে চলা
    প্রিয় ফুটবল খেলা।
    আয়ুসকাল নব্বই
    গড় আয়ু সবই
    ভেজাঁল খাদ্যে সয়লাব
    রাজনীতিতে ভয় লাভ।
    একুশ আমার ছেলেবেলা
    চেতনা শিক্ষা বইমেলা
    মায়ের বুকে প্রভাত ফেরী

    :: শেয়ার করুন ::

    Comments

    comments

    সংবাদটি ফেইসবুকে শেয়ার করুন

    দৈনিক রুদ্রবার্তা/শরীয়তপুর/২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/


    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    সাহিত্য পাতা

    ১৪ এপ্রিল ২০১৯

    গল্পঃ রোহানের শহিদ মিনার

    ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক রুদ্রবার্তা

  • error: নিউজ কপি করা নিষেধ!!