বর্ষার পানি নামতে দেরি হওয়ায় শরীয়তপুরে পেঁয়াজ ও রসুনের আবাদ শুরু হয়েছে কিছুটা বিলম্বে। তবে জমি রোপণের উপযোগী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিস্তীর্ণ মাঠে কন্দজাতীয় এ ফসলের চাষে পুরোদমে নেমেছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ৭শ’ একর জমিতে পেঁয়াজ ও ৫ হাজার ২শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে থাকছেন কৃষক। কেউ বীজ ও রসুনের কোয়া রোপণ করছেন, কেউ জমির পরিচর্যায় ব্যস্ত। উৎপাদন খরচ কমাতে এবং সময়মতো আবাদ শেষ করতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজেরাই কাজ করছেন অনেক কৃষক।
শরীয়তপুরের উর্বর দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি পেঁয়াজ-রসুনের জন্য উপযোগী। এসব মাটিতে পানি সহজে নিষ্কাশিত হয় এবং প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ধরে রাখে। কন্দ মাটির নিচে বাড়ে বলে জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে পচন ও ছত্রাকজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
এ কারণে বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর মাটিতে উপযুক্ত আর্দ্রতা থাকতেই কৃষকরা বিনা চাষে রোপণ করছেন। এ পদ্ধতিতে জমি বারবার চাষ ও মই দিয়ে প্রস্তুত করার দরকার হয় না। ফলে জমি তৈরির খরচ, সময় ও শ্রম কম লাগে। কেউ কেউ খড় বা শুকনো উদ্ভিদাংশ দিয়ে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, পেঁয়াজের মধ্যে মুড়ি কাটা জাতের ৪ হাজার ৩৫০ হেক্টর এবং হালি পেঁয়াজের ৩৫০ হেক্টর জমি রয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে উন্নত চাষাবাদ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন ও ফসল পরিচর্যায় কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. জাহিদুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, পেঁয়াজ ও রসুনের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের পাশে থেকে কাজ চলছে। ছত্রাক ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সারের কৃত্রিম সংকট ও দাম বাড়ানো ঠেকাতে ডিলারদের ওপর নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। সরকারি প্রণোদনার আওতায় উপজেলা পর্যায়ে কৃষকদের সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে।
তবু মৌসুমের শুরুতেই বীজ ও সারের বাড়তি দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকরা। তাঁদের ভাষ্য, জমিতে শ্রম, বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণের খরচ বাড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ভালো হওয়ার আশা থাকলেও ন্যায্যমূল্য না পেলে পরিশ্রমের কাঙ্ক্ষিত লাভ মিলবে না।
জাজিরা উপজেলার কাজিরহাটের উত্তর ডুবুলদিয়া গ্রামের কৃষক আজমত উল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, পানি নামার সঙ্গে সঙ্গেই পেঁয়াজ ও রসুনের আবাদ শুরু করেছেন। বীজ ও সারের দাম বেশি হলেও আবহাওয়া সহায়ক হলে ভালো ফলনের প্রত্যাশা তাঁর। নিজেরাই জমিতে কাজ করছেন বলে শ্রমিকের খরচ কিছুটা কমছে। তবে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পেলে পরিশ্রম সার্থক হবে।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, পেঁয়াজ ও রসুন সারা বছর চাহিদা থাকা মসলা ফসল। পরিকল্পিত আবাদ, উন্নত বীজ, সুষম সার ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ আছে। একই সঙ্গে কৃষি উপকরণের বাজার স্থিতিশীল রাখা, ফসল সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি।




মন্তব্য করুন