রবিবার, ৩১শে মে, ২০২০ ইং, ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৭ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী
রবিবার, ৩১শে মে, ২০২০ ইং

ভেদরগঞ্জে মালিকানা সম্পত্তিতে সরকারী অর্থায়নে কালভার্ট নির্মাণ ॥ উপজেলা প্রকৌশলকে শো-কজ করেছেন আদালত

ভেদরগঞ্জে মালিকানা সম্পত্তিতে সরকারী অর্থায়নে কালভার্ট নির্মাণ ॥ উপজেলা প্রকৌশলকে শো-কজ করেছেন আদালত

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুরে ৬৩নং কোড়ালতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে এডিপি’র অর্থায়নে কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা জলিল বেপারীর বাড়ি সংলগ্ন বিরোধপূর্ণ মালিকানা জমিতে সেই কালভার্ট নির্মাণ করার অভিযোগ এনে শের আলী সরদার নামে এক ব্যক্তি ভেদরগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২৬২/২০১৯।
সেই মামলায় আদালতের বিচারক ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) আদেশ দিয়েছেন ০১ অক্টোবর মঙ্গলবার। আদালতের আদেশ হাতে পায়নি বলে নালিশী জমিতে কালভার্ট নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন উপজেলা প্রকৌশলী আকতার হোসেন।
মামলার বাদী শের আলী সরদার বলেন, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আ. জলিল বেপারীর সাথে আমাদের জমি-জমা নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা মোকদ্দমা চলমান রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা জলিল বেপারীর সাথে যোগসাজসে বিরোধপূর্ণ নালিশী জমিতে কালভার্ট নির্মাণ কাজ শুরু করে। একাধিকবার বলেও উপজেলা প্রকৌশলীকে বিষয়টি বোঝাতে পারিনি। প্রকৌশলী বলে জমির বিরোধ নিস্পত্তি করেই কালভার্ট নির্মাণ কাজ করা হবে। অপরদিকে ঠিকাদারের মাধ্যমে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যায়। তাই আদালতে নালিশী জমিতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দাবীতে আদালতে মামলা দায়ের করি। মামলা নং ২৬২/২০১৯। আদালত আমার মামলা গ্রহণ করে উপজেলা প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আমি আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞ।
বিরোধপূর্ণ মালিকানা জমিতে সরকারি অর্থায়নে কালভার্ট নির্মানের বিষয়টি জানতে চাইলে ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আখতার হোসেন বলেন, প্রকল্প তালিকায় ভুলক্রমে রামভদ্রপুর ৬৩নং কোড়ালতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম লেখা হয়েছে। তালিকা সংশোধন করা হবে। এখন রাস্তার পাশে খালে যে কালভার্ট নির্মাণ হচ্ছে সেই খাল সরকারী। সরকারী অর্থায়নে সরকারী খালে রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে। সেই নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা যাবে না।
খালের অপর পাশে যে জমি সেই জমিতো মালিকানা। আর সেই মালিকানা জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। সেই বিরোধপূণ জমিতে সরকারী অর্থায়নে আপনি কিভাবে কালভার্ট নির্মাণ করবেন? এই প্রশ্নের কোন জবাব দিতে পারেননি প্রকৌশলী আক্তার হোসেন। পরে তিনি বলেন, আদালতে মামলা হয়েছে মর্মে আমার দপ্তরকে অবহিত করা হয়নি। নোটিশ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকারী অর্থায়নে ব্যক্তি স্বার্থে কোন স্থাপনা হতে পারে না। তাছাড়া কোড়ালতলী ৬০নং কোন স্কুল নাই। কালভার্ট নির্মাণের স্থান থেকে আধ কিলোমিটার দূরত্বে ১৩ নং কোড়ালতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে একটা বিদ্যালয় রয়েছে। সেখানে কোন কালভার্টের প্রয়োজন নাই। অথচ ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে একপাশে সরকারী রাস্তা ও অপর পাশে বিরোধপূর্ণ মালিকানা জমিতে কালভার্ট নির্মাণ করছে। কালভার্টের একপাশে সরকারী রাস্তা আছে কিন্তু অপর পাশে সরকারী রাস্তা বা হালট নাই। এখানে সরকারী অর্থায়নে কালভার্ট বরাদ্দ হয় কিভাবে? কালভার্ট পাড় হয়ে মানুষ কোথায় যাবে? সরকারী কর্মকর্তা দাবী করে তার এমন অনিয়ম করে কিভাবে।
বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট লুৎফর রহমান ঢালী বলেন, বাদী পক্ষে আদালতে মামলা দায়ের করি। আদালত সন্তুষ্ট হয়ে নালিশী জমিতে বিবাদীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছেন। এবং সকল বিবাদীকে কারন দর্শাতে বলেছেন। আদালতের এই আদেশকে শ্রদ্ধা জানাই।