বৃহস্পতিবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২১ ইং, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২০শে রজব, ১৪৪২ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২১ ইং
বাংলাদেশের অন্যতম শিল্প গোষ্ঠী সিকদার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান

বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদারের মৃত্যুতে শরীয়তপুর জুড়ে শোকের ছায়া

বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদারের মৃত্যুতে শরীয়তপুর জুড়ে শোকের ছায়া

বাংলাদেশের অন্যতম শিল্প গোষ্ঠী সিকদার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদারের মৃত্যুতে শরীয়তপুর জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়ের নিজ বাড়ি মধুপুরে গিয়ে দেখা যায় তার আত্মীয় স্বজন, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারী সহ সাধারণ মানুষ শোকে মুহ্যমান।

সিকদার গ্রুপের পক্ষ থেকে সাত দিনের শোক ঘোষনা করা হয়েছে। আজ (১২ ফেব্রুয়ারী, শুক্রবার) সকালে তার মৃতদেহ দেশে আনার পর ঢাকায় প্রথম জানাজা নামাজ শেষে হেলিকপ্টার যোগে গ্রামের বাড়ি মধুপুরে নিয়ে আসা হবে। পরে সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সর্বশেষ জানাজা নামায শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সেখানে দাফন করা হবে।

জয়নুল হক সিকদার তার গ্রামের বাড়ি মধুপুরে গড়ে তুলেছেন জেডএইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মনোয়ারা শিকদার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ন্যাশনাল ব্যাংক শাখা, বহুতল বিশিষ্ট আধুনিক মাদ্রাসা, বৃদ্ধাশ্রম সহ অনেক প্রতিষ্ঠান। সেখানে এখন তাকে শেষ বিদায় ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের আয়োজন চলছে।

জয়নুল হক সিকদারের ভাতিজা স্বজল শিকদার বলেন, আমার চাচা জয়নুল হক সিকদার এখন আর আামাদের মাঝে নেই। তার মৃত্যুর মধ্যদিয়ে আমরা একজন মহান দেশপ্রেমিক ও সমাজ সেবককে হারালাম। আমরা গভীরভাবে শোকাহত। চাচার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। সকলে আমার চাচার জন্য দোয়া করবেন।

জয়নুল হক সিকদারের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার দুপুরে দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

জয়নুল হক সিকদারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদারের গড়া সিকদার গ্রুপের ব্যবসা ছড়িয়ে আছে ব্যাংক ও বীমা, বিদ্যুৎ, ইকনোমিক জোন, এভিয়েশন, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মত নানা খাতে।

এর সহযোগী কোম্পানির মধ্যে রয়েছে পাওয়ার প্যাক পোর্টস, পাওয়ার প্যাক ইকনোমিক জোন, সিকদার ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, পাওয়ার প্যাক হোল্ডিংস, সিকদার রিয়েল এস্টেট ও মাল্টিপ্লেক্স হোল্ডিংস।
কয়েকটি মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করেছেন জয়নুল হক সিকদার। ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ পোস্ট সিকদার গ্রুপেরই একটি প্রকাশনা।

ন্যাশনাল ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৯৩০ সালের ১২ অগাস্ট আসামে জন্মগ্রহণ করেন জয়নুল হক সিকদার। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় পরিবারের সাথে তিনি বাংলাদেশে চলে আসেন।

দীর্ঘ সাত দশকের বেশি সময় ধরে তিনি দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, পর্যটন, আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন খঅতে যেসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, তাতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ কাজ করছেন।

“জয়নুল হক সিকদার সেই ১৯৪৫ সাল থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে তার পাশে থেকেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার চার দিন পর অর্থাৎ ১৯ আগস্ট তিনি রায়ের বাজারে কুলখানির আয়োজন করেন।”
সেজন্য সে সময় তাকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল বলেও জানানো হয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

জয়নুল হক সিকদারের ছেলেদের মধ্যে রিক হক সিকদার ও রন হক সিকদার এ গ্রুপের পরিচালক। আর মেয়ে পারভীন হক সিকদার সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য।