বুধবার, ২৮শে জুলাই, ২০২১ ইং, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ্জ, ১৪৪২ হিজরী
বুধবার, ২৮শে জুলাই, ২০২১ ইং

১২ লাখ টাকায় ২৭ মণ ওজনের “রাজা বাবু”কে বেচতে চান মনজিলা

১২ লাখ টাকায় ২৭ মণ ওজনের “রাজা বাবু”কে বেচতে চান মনজিলা

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় তুলাসার ইউনিয়নে এই বছর কোরবানি ঈদের জন্য গৃহিনী মনজিলা প্রস্তুত করেছে ২৭ মণ ওজনের রাজা বাবু।
মনজিলা গৃহিনী আবার এখন সে সফল গবাদিপশু পালন কারি। তাঁর খামারের একটি বিরাটকার ষাঁরের নাম রেখেছে ‘রাজা বাবু’।

মনজিলা দাবী করেন, তার কালো রঙের রাজা বাবুর ওজন ১ হাজার ৭০ কেজি । দৈর্ঘ্য ৮ ফুট, উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। হলেস্টিয়ান ফ্রিজিয়ান ক্রস জাতের ষাঁড়টির নাম ‘রাজা বাবু’। আসন্ন কোরবানিতে এর দাম হাঁকা হয়েছে ১২ লাখ টাকা।

মনজিলা বেগম(৩০) শরীয়তপুরের সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নের (৩ নং ওয়ার্ড)চর পাতানিধি গ্রামের শাজাহান মুন্সির স্ত্রী। মনজিলা বেগম বসে না থেকে সংসারের পাশাপাশি ২০১৮ সালে একটি ষার কিনে পালতে থাকেন। ষারের যত্ন থেকে শুরু করে সময় মতো খাবার দিতেন মনজিলা বেগম নিজেই।

তিনি কোরবানির ঈদে ষাঁড়টি বিক্রি করবেন। এটি দেখতে প্রতিদিন তার বাড়িতে ভিড় করছেন লোকজন।

২০১৮সালে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় স্থানীয় বাজার থেকে হলেস্টিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের একটি ষাঁড় কিনে পালন শুরু করেন মনজিলা বেগম।,কেনার পর দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। প্রয়োজন মতো খাবার ও পরিচর্যা করতেন থাকেন।

ষাঁর পালনকারি মনজিলা বেগম দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, ষাঁড়টির খাদ্য তালিকায় রয়েছে কাঁচা ঘাস, খড়, গমের ভুসি, চালের কুঁড়া,ধানের গুরা,ভুট্টা, ডালের গুঁড়া ও ছোলা। সব মিলিয়ে দিনে ২০-২৫ কেজি খাবার খায় ষাঁড়টি ।

আরো বলেন ,ষাঁরটিকে আমি ২ বছর যাবৎ লালন- পালন করছি সখ করে করে ষাঁড়টির নাম রেখেছি ‘রাজা বাবু’। ষারটির জন্য আমি আমার ঘরের পাশেই একটি ঘর বানিয়েছি সে খানে একটি ফ্যান সারাক্ষণ ওর জন্য চালু রাখা হয়। ঘরের ভিতরেই গোসল করানো হয় , আকৃতি বড় হওয়ার কারনে ঘরের দরজা দিয়ে বের করা যাচ্ছে না। যখন ঘরে ভিতরে ঢুকাইছিলাম তখন ছোট ছিলো এখন বের করতে হলে দরজা ভেঙে বের করতে হবে।ষারটিকে কিনতে অনেক ক্রেতা আসে যায় ৬ লক্ষ টাকা ধাম উঠেছে।আমি ষারটিকে ১২ লাখ টাকা হলে বিক্রি করবো।তবে বাড়ি থেকে কেউ কিনতে চাইলে দর-দাম করে বিক্রি করবো।

স্থানীয় পশু চিকিৎসক এফ এম রুহুল আমিন দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, ষারটিকে দেশীয় প্রক্রিয়া লালন-পালন করা হয়েছে। প্রথম থেকেই আমি ষাঁড়টির সব ধরনের চিকিৎসা করে আসছি। দেশীয় খাবার দেওয়া হতো কোন ক্ষতি কারক খাবার ব্যাবহার দেওয়া হয় নাই।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তরুণ কুমার রায় দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, মনজিলার ষারটি সংকর জাতের। ষারটিকে খাবারের জন্য আমরা একটি চার্ট তৈরি করে দিছি সেই অনুযায়ী খাবার দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে সব ধরনের ঔষধ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে।আমার জানামতে এই ষারটিকে কোন কৃত্রিম প্রক্রিয়ায় বড় করা হয় নাই সম্পুর্ন দেশীয় প্রক্রিয়া লালন-পালন করা হয়েছে।

‘রাজা বাবুকে’ কেনার জন্য ০১৮৩৯৭০২৬২০ নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলেন মনজিলা বেগম।