Tuesday 25th June 2024
Tuesday 25th June 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67
"ফলোআপ" শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ

ক্লিনিকে দুই নবজাতক ও এক মা মৃত্যুর ঘটনায় নিরব ভূমিকায় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ

ক্লিনিকে দুই নবজাতক ও এক মা মৃত্যুর ঘটনায় নিরব ভূমিকায় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ

শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায় মর্ডান ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড ক্লিনিক ও পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিকে গত ১২ অক্টোবর দুই নবজাতক ও একজন মা মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। একমাস পরেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে নিরব ভূমিকা পালন করছেন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।
যদিও এর আগে নিউজ প্রকাশের সময় গণমাধ্যমকে শরীয়তপুর জেলা সিভিল সার্জন অফিসার ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাদের বক্তব্যে নবজাতক ও মা মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত দায়িত্বরত চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছিলেন। এদিকে ঘটনার একমাস পেরিয়ে গেলেও কোন এক অজানা কারণে এখনো তদন্ত কমিটিই গঠিত হয়নি, নেয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপ। এতে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে ক্লিনিকগুলো ও চিকিৎসকরা। কথিত আছে এ পর্যন্ত শরীয়তপুর জেলার ক্লিনিকগুলোতে মা ও নবজাতক মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে একাধীক, এবিষয়গুলো জানতে চাইলে প্রত্যেকবারই দায়িত্বরত জেলা সিভিল সার্জন অফিসারগণ জানান তদন্ত কমিটি করা হয়েছে, তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে, কিন্তু এ পর্যন্ত বেশিরভাগ তদন্তই দেখেনি আলোর মুখ। এধরনের ক্লিনিকগুলোর অব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের পর্যবেক্ষন দূর্বলতার কারনে, জেলা জুড়ে বিভিন্ন ক্লিনিকগুলোতে অহরহ ঘটছে জীবনহানীর ঘটনা।
এছাড়া ক্লিনিকগুলোর অপারেশন থিয়েটারগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় কম যন্ত্রপাতি ব্যবহার, অপরিছন্ন পরিবেশ, ডিপ্লোমা কোর্স করা প্রশিক্ষিত নার্স না থাকা, সার্বক্ষনিক ডিউটিতে মেডিকেল অফিসার (আরএমও) না থাকাসহ নানান সমস্যায় জর্জড়িত ক্লিনিকগুলো। তাছাড়া অপারেশনথিয়েটারগুলোতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সিজারের পর অপারেশন থিয়েটারের মধ্যেই পাশের রুমে রেখে মা ও শিশুদের ৬ ঘন্টা পর্যবেক্ষনে রাখার নিয়ম থাকলেও নিয়ম মানছেনা এসব ক্লিনিকগুলো, তারা সিজার করেই পাঠিয়ে দেন বেডে, সবার সাথে এক রুমে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ ক্লিনিক মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে চায়না, তাই তারা মানুষের জীবন নিয়ে খেলতে পারছে।

মৃত নবজাতকের পিতা ইব্রাহিম মিয়া বলেন, আমার সন্তানের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, এপর্যন্ত সাংবাদিকরা ছাড়া, কতৃপক্ষের কেউ আমাকে জিজ্ঞেসও করেনি কি হয়েছিল সেদিন। আমি এদের বিচার দাবি করছি, যাতে কোনো ক্লিনিকে রোগীদের সাথে এধরণের ঘটনা না ঘটে।

নবজাতক ও মা মৃত্যুর ঘটনায় ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পঃপঃ কর্মকর্তা ডা. হাসান ইবনে আমিন জানান, মর্ডান ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে ক্লিনিক দুটিতে দুই নবজাতক ও এক মা মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কোনো তদন্ত কমিটি গঠিত হয়নি, তবে ক্লিনিকটিতে পরিদর্শনে এসেছিলেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কোনো জড়িমানা করা হয়নি বলে জানান তিনি। তাছাড়া পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও মর্ডান ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের কারো বিরুদ্ধেই কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি বলে জানান সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।

এঘটনায় জেলা সিভিল সার্জন অফিসার ডা. আবুল হাদী মোহাম্মদ শাহ্ পরান জানান, জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত করেছেন, আমরা জেলা সিভিল সার্জন থেকে তদন্তের ব্যবস্থা করবো।

উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১০ গজের মধ্যেই অবস্থিত মর্ডান ডায়াগনস্টিক এন্ড ক্লিনিক, সেখানে ১২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মনি আক্তার ওরফে স্বর্না নামের একজন গর্ভবতী মায়ের রাত ২টার সময় সিজার করা হয় সে সময় নবজাতকের মৃত্যু হয়, মায়ের শারীরিক অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা পাঠানো হয়, ঢাকা যাওয়ার পথেই মারা যায় স্বর্না আক্তার। তার বাড়ি ভেদরগঞ্জ উপজেলার,সখিপুর থানার ডিএম খালী ইউনিয়নের চরচান্দা গ্রামে। ক্লিনিক সূত্রে জানাযায় স্বর্না আক্তারের এনেস্তেসিয়া (অজ্ঞান) করেন জেড এইচ শিকদার মেডিকেল কলেজের ডা.তানভীর এবং সিজার করেন ডা.সামসুজোহা। এছাড়াও সামচুজোহা বর্তমানে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত রয়েছেন।
এদিকে একইদিনে ভেদরগঞ্জের পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক নামের একটি ক্লিনিকে রামভদ্রপুর ইউনিয়নের কোড়ালতলী গ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার স্ত্রী আসমা আক্তারকে ডা. আম্বিয়া আক্তার কনার কাছে দেখাতে নিয়ে আসেন পরীক্ষা না করে, তার শারীরিক অবস্থা না জেনে রোগীর স্বজনদের নানান ভয়ভীতি দেখিয়ে মূহুর্তের মধ্যেই সিজার করে ডামুড্যা চলে যান আম্বিয়া আলম কনা,তখন নবজাতক শিশুটি নড়াচড়া না করায়, ডা. আব্দুর রশিদ পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল থেকে পাঠিয়ে দেন মর্ডান ক্লিনিকে সেখানে ডা. তরুন কুমার পরীক্ষা নীরিক্ষা করে শিশুর পালস না পেয়ে তিনি আবার পাঠিয়ে দেন পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে, পরে ডা.আব্দুর রশিদ শিশুর স্বজনদের গাড়ি এনে বাড়িতে নিয়ে যেতে বললে স্বজনরা বুঝে ফেলে তাদের বাচ্চা বেঁচে নেই।

পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে নবজাতক সন্তান মৃত্যুর ঘটনায় ভূক্তভোগী পিতা ইব্রাহিম মিয়া বলেন, আমার স্ত্রী আসমাকে বৃহস্পতিবার সন্ধায় পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে ডা. আম্বিয়া আলম কনার কাছে নিয়ে আসছি দেখাতে,এর ১ মাস আগে তার কাছে দেখিয়েছি তখন তিনি ২৬ অক্টোবর সন্তান প্রসবের ডেট দিয়েছেন, ১২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নিয়ে আসার পর ডা. কনা আমার স্ত্রীর সাথে খুব রাগারাগি করেছে, সে বলে এতোদিন আসেননি কেনো বাচ্চার কিছু হলে আপনারা দায়ী হবেন, এই বলে রাত ১০টার দিকে তার নার্স এসে রোগীর সাথে থাকা স্বজনদের জানায় এখন সিজার না করলে মায়ের সমস্যা হবে, ডা.আম্বিয়া আলম কনা এখনই ডামুড্যা ক্লিনিকে চলে যাবে সেখানে তার আরো সিজার করতে হবে, আপনারা কি করবেন, পরে আমরা সিজার করার কথা বলি, তখন তারাহুরো করে সিজার করে আম্বিয়া চলে যায় ডামুড্যা পরে আমার ছেলে নড়াচড়া না করায় ডা.রশিদ রাত ২টার সময় মর্ডান ডায়াগনস্টিকে পাঠান সেখানে নিলে ডা. তরুন কুমার দেখে বাচ্চার কোন পালস না পাওয়ায় আবার পদ্মায় পাঠিয়ে দিলে ডা. রশিদ নলে গাড়ি ডেকে বাচ্চা বাড়িতে নিয়ে যান তখন বুঝেছি আমার বাচ্চা মারা গেছে, ইব্রাহিম আরও অভিযোগ করে বলেন এনেস্তেসিয়া করে ৫ মিনিট অপেক্ষা করে নাই, আমার বাচ্চার শরীর নীল হয়ে গেছে, আমি এই হত্যার বিচার চাই। আমাকে মামলা করতে দেয়নি, ক্লিনিকের লোকজন আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে।