
শরীয়তপুর ডামুড্যা উপজেলার ইসলামপুর গ্রামে ২০২১ সালে স্বামি ফেসবুক লাইভে এসে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামি নজরুল এর ফাঁসি রায় ঘোষনা করেছেন শরীয়তপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ মাহফিজুর রহমান । রবিবার ২৬ নভেম্বার দুপুরে মামলার ভিকটিম পক্ষের উকিল মির্জা হযরত আলি জানান, এই মামলার আসামী নজরুল ইসলাম।
তার বিবাহিত স্ত্রী আমেনা বেগমকে প্রকাশ্য দিবা-লোকে গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সালে বেলা ১১ টার সময় তার নিজ বাড়ির বসত ঘরে একটি ধারালো কুড়াল দিয়ে উপর্যুপরি কোপ দিয়ে নির্মম, নৃশংস ভাবে হত্যা করে। হত্যা করার পর ঐদিন পুলিশের কাছে গ্রেফতার হয়। গ্রেফতার হওয়ার পর মামলা রুজু হয়। মামলার তদন্ত হয়ে চার্জশিট গঠন করে এবং দীর্ঘ ১৮ মাস পর্যন্ত এই মামলার স্বাক্ষ গ্রহণ কার্যক্রম চলে। এই মামলায় যে নিহত হয়েছেন, তার ভাই হচ্ছেন বাদী। তার নাম নজরুল ইসলাম এবং নিরপেক্ষ লোকজন স্বাক্ষ প্রদান করেন।
এই মামলার আসামি স্বাকিরক্তি দিয়ে জাবান বন্দি দেন যে,সে এই হত্যা কান্ডটা ঘটিয়েছে। এবং সে নিজেকে বাঁচানোর জন্য মিথ্যা কলঙ্ক লেপন করে ভিকটিমের উপর। যে- তার সাথে পরকিয়া আছে। এরকম একটি দীর্ঘ দিনের ১৫ বছরের বিবাহিত জীবনে,এরকম একটি দীর্ঘ কালের পরকিয়া সম্পর্ক, সমচুল হক নামে যে উল্লেখ করেছে। সেই গ্রামের একটা মানুষকে সে সাফাই স্বাক্ষি হিসাবে আনতে পারে নাই, বা এর প্রমাণ এই মামলায় তারা রাখতে পারে নাই। মূলত মামলার সত্যতাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য বাদী তাকে হত্যা করে খান্ত হন নাই। তাকে আবার কলঙ্কিত করার জন্য মিথ্যা কলঙ্ক লেপন করে মিথ্যা অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, যেহেতু এটি খুনের মামলা। আপনারা হয়তো জানেন, এটা ওয়াইফ কিলিং কেস। স্ত্রী হত্যা মামলায়। যদি স্বামির বাড়িতে স্ত্রী নিহত হয়। যে কোন ভাবে, স্বামি সে জন্য দায়ী। আর এখানে সে নিজে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে মেরেছে! মোবাইল দিয়ে লাইভ করেছে! এবং স্বাকারউক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়ে সে স্বিকার করেছে। কাজেই এই মামলাটি স্বাক্ষ গ্রহণ করে। যারা সিজার লিষ্টের স্বাক্ষি, যারা সুরত হলের স্বাক্ষি, যারা এই মামলার অন্যান রকমের স্বাক্ষি, সমস্ত স্বাক্ষি রা বিজ্ঞ আদালতে স্বাক্ষি দিয়েছে। এবং সমস্ত স্বাক্ষিদের কথা, একই সরল রেখায় গমন করেছে। আসামি পক্ষ জেরা করে এই মামলার কোন ক্লু’ বের করতে পারে নাই।
এই আবস্থায় বিজ্ঞ আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ মাহফিজুর রহমান এই জনাকীর্ণ আদলাতে মধ্যাহ্ন বেলায় এই রায় প্রদান করেছেন। আসামি নজরুল ইসলামকে তার স্ত্রীকে নির্মম ভাবে হত্যার মধ্যদিয়ে, যে অপরাধ করেছে, ৩০২ ধারায় তার সর্বচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড বা ফাঁসির আদেশ দিয়েছে। আমরা মনে করি এই আদেশের মধ্য দিয়ে। স্ত্রী-স্বামির যে সম্পর্ক, সামাজিক, বৈবাহিক,এবং যে বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত। এই হত্যাকান্ডের মধ্যদিয়ে, তিনি একজন মানুকে হত্যা করেন-নি, তিনি একজন স্ত্রীকে হত্যা করেন-নাই। সামাজিক দায়বদ্ধতা,অসামাজিক বন্ধন। স্ত্রীর প্রতি স্বামির যে সত্যতা,সমস্ত কিছুকে হত্যা করেছে। যার কারণে এই নির্মম খুনের দৃষ্টান্ত মূলক সাজা হয়েছে। আমরা রাষ্ট্র পক্ষ এই রায়ে সন্তুুষ্ট। আমরা মনে করি। এই ধরনের মামলার দৃষ্টান্ত মূলক সাজা হলে। সমাজে এর একটা প্রতিফলন ঘটবে। সমাজে এই ধরনের ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি হবে না।