Wednesday 17th April 2024
Wednesday 17th April 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

ধুতুরাপাতা খেয়ে শরীয়তপুর একই পরিবারের শিশুসহ ৬ জন হাসপাতালে

ধুতুরাপাতা খেয়ে শরীয়তপুর একই পরিবারের শিশুসহ ৬ জন হাসপাতালে

চুলকানি নিরাময়ে ধুতরা পাতার ভাজি খেয়ে একই পরিবারের শিশুসহ ৬ জন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের সকলকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে ঢাকায় প্রেরণ করা হবে।

রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২ টার দিকে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানাধীন দক্ষিণ চরকুমারিয়া এলাকার খাস গাজীপুর গ্রামের লিটন খানের পরিবার এই পাতা ভাজি করে খাওয়ার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

ধুতুরা পাতা ভাজি খেয়ে অসুস্থ হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, খাস গাজীপুর গ্রামের নুর হক খানের স্ত্রী বেলাতন নেছা (৬০), ছেলে লিটন খান (৪০), পুত্রবধু লাকি বেগম(৩৫), নাতিন সামিয়া (৫), সায়মন(৭) লামিয়া (৯)।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত এক মাস ধরে লিটন খানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা চর্মরোগ জনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তি লিটন খানকে পরামর্শ দেন ধুতুরা পাতা ভাজি করে খেতে। লিটন খান অসুস্থ হওয়ায় ওই ব্যক্তির নাম পরিচয় জানা যায়নি। ওই ব্যক্তির পরামর্শ অনুযায়ী লিটন খান বাড়িতে ধুতুরা পাতা নিয়ে যায়। পরে তার স্ত্রী লাকি বেগম ধুতুরা পাতা ভাজি করে দুপুরের খাবারের সাথে পরিবারের সবাই খায়। খাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে একে একে পরিবারের সবার মাথা ঘুরানো ও বমি হলে প্রতিবেশীরা স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর হলে সেখান থেকে তাদেরকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পেলেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরাও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

অসুস্থ ওই পরিবারটির প্রতিবেশী রোস্তম মোল্লা দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, দুপুরে হঠাৎ করে জানতে পারি লিটনের পরিবারের সবাই ধুতুরা পাতা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এরপর তাকে আমরা হাসপাতলে নিয়ে আসছি। চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য একটার পর একটা হাসপাতাল পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। কার পরামর্শে ধুতুরা পাতা খেয়েছে পরিবারটি, তার নাম এখনও আমরা জানতে পারিনি।

অসুস্থ লিটন খানের বড় ভাই আব্দুর রশিদ খান দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, চর্মরোগের সমস্যার বিষয়টি স্থানীয় একজনকে জানালে তিনি ধুতুরা পাতা খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে লিটন খান অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর অসংলগ্ন কথা বার্তা বলছেন। যার পরামর্শে তিনি পাতা খেয়েছেন, এখন তার নামও বলতে পারছেন না। ধুতুরা পাতা ভাজি খাওয়ার পর পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসছি। আমার বৃদ্ধ মা বেলাতন নেছাসহ ছোট শিশুরা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শারমিন আক্তার দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, একই পরিবারের পাঁচজন ধুতুরা পাতা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তারা অনেক সময় পরে হাসপাতালে আসায় ওয়াশ করতে পারিনি আমরা। শিশুরা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। প্রত্যেক রোগীকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।