Thursday 13th June 2024
Thursday 13th June 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

শরীয়তপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় দুই বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু!!!

শরীয়তপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় দুই বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু!!!
শরীয়তপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় দুই বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু!!!

ঘুরতে গিয়ে মটরসাইকের দূর্ঘটনায় দুই বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন, শরীয়তপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড তুলাসার গ্রামের ইউনুস মোল্যার ছেলে দিগন্ত (১৭) ও ৫নং ওয়ার্ড উত্তর বালুচড়া গ্রামের খোকন সরদারের ছেলে সুমন সরদার ওরফে জুম্মন (১৭)। তারা দুজন পালং তুলাসার গুরুদাস সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের একই ক্লাসের ছাত্র। এ বছর তারা এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে যার রেজাল্ট এখনো বের হয়নি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে শরীয়তপুরবাসী।

গত বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলার মডেরবাজার সংলগ্ন শরীয়তপুর-মাদারীপুর সড়কে এই দূর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বাবা-মা আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীদের শোকের মাতম। সহপাঠী ও বন্ধুবান্ধবরাও তাদের বাড়িতে গিয়ে বন্ধুকে হারানোর বেদনায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে। তাদের আহাজারীতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দিগন্তের বাবা ইউনুস সরদার একটি সংস্থায় চাকরী করতেন। এখন তিনি অবসরপ্রাপ্ত। দিগন্তরা দুই বোন এক ভাই। বাদ জোহর জানাজা নামাজ শেষে বাড়ির পাশে দিগন্তকে দাফন করা হবে। আকষ্মিক এই ঘটনায় নির্বাক বাবা-মা আত্মীয় স্বজন প্রতিবেশী সবাই।

দিগন্তর চাচা আলী আহম্মদ মোল্যা জানান, দিগন্ত ছিলো ভাইয়ে একমাত্র আদরের ছেলে। তাই তাকে বাইক কিনে দিয়েছিলো তার বাবা। দিগন্ত এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে যার রেজাল্ট এখনও বের হয়নি। তাই পড়ালেখার চাপ না থাকায় সহপাঠী ও বন্ধুরা মিলে নিজের বাইকে মাদারীপুরে ঘুরতে গিয়েছিলো। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাদারীপুর থেকে ফেরার পথে একটি গাড়ি সাইড দিতে গিয়ে রাস্তার পাশে স্ট্যান্ড করে রাখা রড বোঝাই ট্রাকের সাথে দিগন্তের মটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দিগন্ত ও তার বন্ধু জুম্মন নিহত হয়। মোটরবাইটিও ভেঙ্গে চুরমার হয়ে য়ায়। দিগন্ত নিজেই বাইকটি ড্রাইভ করছিলো।

জুম্মনের বাবা খোকন সরদার ঢাকায় রিক্সা চালায়। জুম্মন দূর্ঘটনায় নিহত হওয়ার খবর পেয়ে সকালে বাড়ি আসে খোকন সরদার। তারাও দুই বোন এক ভাই। একমাত্র ছেলেকে বাড়িয়ে নির্বাক মা-বাবা, আত্মীয় স্বজন। বাড়ির পাশেই জুম্মনকে দাফন করা হয়েছে।

পুত্রশোকে পাগলপ্রায় মা আছমা বেগম বিলাপ করছেন, আমাকে ফাঁকি দিয়ে কোথায় চলে গেলি বাবা। তোকে ছাড়া আমি কিভাবে চাচবো’। মায়ের আহাজারীতে কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি।