বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২০ ইং, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২০ ইং

ডামুড্যা উপজেলায় প্রথম করোনা জয়ী নারীকে ফুলের অভিনন্দন

ডামুড্যা উপজেলায় প্রথম করোনা জয়ী নারীকে ফুলের অভিনন্দন
ডামুড্যা উপজেলায় প্রথম করোনা জয়ী নারীকে ফুলের অভিনন্দন

শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলায় একই পরিবারের ২ জন নারী করোনা জয় করেছেন। উপজেলার প্রথম করোনা রোগী রোকেয়া বেগম (৩০) ও তার শ্বাশুড়ি তহুরা বেগম(৬০) কে বৃহষ্পতিবারা (১৪ মে) আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘করোনা জয়ী’ ঘোষণা করা হয়। রোকেয়া বেগম জেলার প্রথম করোনা ভাইরাস জয়ী নারী।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ জয় করে সুস্থ হওয়া নারীরা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কাছ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা পেয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডা.শেখ মোহাম্মদ মোস্তফা নিজেস্ব তহবিল থেকে তাদের খাদ্যসামগ্রী ও নগদ টাকা দেওয়া হয় প্রথম করোনা আক্রান্ত রোকেয়া বেগম কে।

ডামুড্যা উপজেলার ডামুড্যা পৌরসভার বিশাকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা মতিন খানের লিভার সিরোসিসের রোগী অসুস্থ ছিলেন। তাকে প্রতিমাসে ডাক্তার দেখানোর জন্য ঢাকা যাতায়াত করতে হত তার স্ত্রী রোকেয়া বেগমকে। এপ্রিল মাসে সে তার স্বামী কে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর জন্য ঢাকা যায়। ঢাকা থেকে আসার পর ৭ এপ্রিল তাকে করোনা সন্ধহে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ১৫ এপ্রিল তার থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত ১৭ এপ্রিল তার করোনা পজেটিভের রিপোর্ট আসে। এর পর থেকে ওই এলাকার ৪০ টি বাড়ি লক ডাউন করা হয়। এবং ১৯ এপ্রিল তার ঘরের বাকী সবাইর নমুনা সংগ্রহ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। পরে রিপোর্টে দেখা যায় পরিবারের সদস্য তার স্বামী মতিন খা ও শাশুরি তহুরা বেগমের করোনা পজিটিভ। ওই অবস্থায় পরিবারটির তিন সদস্যকে বাড়িতে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়। হোম আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় মতিন খা মারা যায়।

করোনা ভাইরাস শনাক্ত হবার পর একই পরিবারের বাকী সদস্যকে চিকিৎসকদের তত্বাবধানে থেকে চিকিৎসা নিতে থাকলে রোকেয়া বেগমের আরো তিন দফা ও শাশুড়ি তহুরা বেগমের চার দফা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় তাদের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি না পাওয়ায় বৃহষ্পতিবার (১৪ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের করোনা জয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

করোনা জয়ী রোকেয়া বেগম বলেন, আমার স্বামীকে ঢাকা ডাক্তার দেখানোর জন্য নিয়ে যাই। ডাক্তার দেখিয়ে আশার পর আমি অসুস্থ হয়ে পরি। পরে আমার শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে শুরু থেকেই তা বিশ্বাস করতে পারেননি। বিষয়টি জানাজানি হলে অনেকে ফোন করায় আমি খুব কষ্ট পেয়ে ছিলাম। তবে দৃঢ় মনোবল নিয়ে ডাক্তারদের পরামর্শ মেনে এখন আমি সুস্থ। আমি ডাক্তারদের পরামর্শ নিয়মিত কুসুম গরম পানি, বিভিন্ন শাক সবজি ও ফল মূল খেতাম।

করোনা জয়ী একই পরিবারের ২ সদস্যদের স্বাগত জানাতে বৃহষ্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তাদেরকে হাসপাতালের সামনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্তুজা আল মুঈদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. শেখ মোহাম্মদ মোস্তফা ও অফিসার্স ইনচার্জ মেহেদী হাসান পরিবারের সদস্যদের হাতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এসময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পরিবারটিকে করোনামুক্ত ঘোষনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা ডা. শেখ মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হবার পরিবারটি তাদের তত্ত্বাবধানে থেকে নিয়ম মেনে চিকিৎসা নেয়। এতে তারা সুস্থ হয়ে ওঠে। রোকেয়া ও তহুরা বেগম নিজ বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মর্তুজা আল মুঈদ বলেন, করোনা একটি যুদ্ধ। নিয়ম মেনে চিকিৎসা নেওয়ায় তারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এই রোগ কে ভয় না পেয়ে চিকিৎসাকের পরামর্শ অনুসারে চিকিৎসা নিলে সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বেশি, এক্ষেত্রে পরিবারটি অনুকরণীয় হতে পারে।