বৃহস্পতিবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২১ ইং, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২০শে রজব, ১৪৪২ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২১ ইং

ডামুড্যা পৌরসভা নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিলেন বৃদ্ধ

ডামুড্যা পৌরসভা নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিলেন বৃদ্ধ

আর বাঁচি কি না জানিনা, পছন্দের প্রার্থীকে আনন্দের সঙ্গে ভোটটি দিলাম। ভোটটা দিতে পেরে আমি খুব খুশি। কথাগুলো বলছিলেন শরীয়তপুরের ডামুড্যা পৌরসভা নির্বাচনে ভোট দিতে আসা ১২১ বছরের বৃদ্ধা জুমন নেছা। তিনি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কুলকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা। নাতি মনির হোসেন ব্যাপারীর কোলে বসে ৫ নম্বর কুলকুড়ি মজিদ মাদবর বাড়ি ফোরকানিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে এসে ভোট দেন তিনি। কেন্দ্রে ভোট দিতে মাত্র দুই মিনিট সময় লেগেছে তার। জুমন নেছা বলেন, আমি জীবনে অনেক ভোট দিয়েছি। জীবনে আর ভোট দিতে পারি কিনা? শেষ বয়সে এসে ভোট দিলাম। অনেক ভালো লাগলো। ভোটের কথা শুধু সবার মুখে শুনি। আজ ভোট তাও জানতাম না। হাঁটতে পারি না তাই বিছানায় পড়ে থাকি। ভেবেছিলাম ভোট দিতে পারব না। কিন্তু নাতি আমাকে কোলে চরে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। তিনি আরও বলেন, আমার খুবই আনন্দ লাগছে, ভোটটা দিতে পেরে। এই বৃদ্ধার মেঝ মেয়ে আছিয়া খাতুন (৬৫) বলেন, আমরা দুই ভাই ও দুই বোন। বাবা (মৃত আব্দুল জলিল ছৈয়াল) ২০ বছর আগে মারা গেছেন।

আজ অনুনয়-বিনয় করে মা বলছিলেন ভোট দেবেন, তাই আমার ছোট ছেলে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যায়। মার বয়স ১২১ হয়েছে, কতদিন বাঁচেন আল্লাহ জানেন। আল্লাহ মাকে অনেকদিন বাঁচিয়ে রাখুন। কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের এসআই ওয়ালিয়ুর রহমান বলেন, যারা বয়স্ক ও অসুস্থ তারা কেন্দ্রে আসা মাত্র আমরা ভোট দিতে সহায়তা করি। জুমন বয়স্ক তাই তাকে পুলিশ ও আনসার-ভিডিপির সদস্যরা সাহায্য করেছেন। দেখলাম তিনি ভোট দিতে পেরে খুব খুশি। ডামুড্যা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কুলকুড়ি মজিদ মাদবর বাড়ি ফোরকানিয়া মাদরাসা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আব্দুর রশিদ জানান, শতভাগ শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ১ হাজার ৬৮৪ জন। এর মধ্যে ৮১০ জন পুরুষ এবং ৮৭৪ জন নারী।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, শরীয়তপুরের ডামুড্যা পৌরসভায় আজ রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়, চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠেয় পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৪ জন, সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে ৯ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩০জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রে মোট ১২ হাজার ২৫৯জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ৬ হাজার ২৯৯ জন আর পুরুষ ৫ হাজার ৯৬০ জন।