সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী
সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং
শরীয়তপুরের ডামুড্যায়

সম্পত্তির লোভে তিন ভাই মিলে বোনকে হত্যা চেষ্টা

সম্পত্তির লোভে তিন ভাই মিলে বোনকে হত্যা চেষ্টা

সাথী (৩৫) নামে এক নারীকে তার সম্পত্তি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় আপন ভাইয়েরা মিলে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখমের পর মুখে বিষ ঢেলে হত্যা চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (৫ জুন) সকালে ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরে সাথীকে গুরুতর অবস্থায় ডামুড্যা উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত ভাই শামীম, সম্রাট ও সোহেল। পরে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক রোগীর শরীরে বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন দেখে ডামুড্যা থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ডামুড্যা থানার ওসি সহ পুলিশের একটি দল হাসপাতালে গিয়ে রোগীর অবস্থা গুরুতর দেখতে পান। তখন চিকিৎসক পুলিশকে জানান, রোগীর অবস্থা গুরুতর। তাকে সদর হাসপাতালে পাঠাতে হবে। কিন্তু রোগীর কোন লোক পাওয়া যাচ্ছেনা। তখন পুলিশ দায়িত্ব নিয়ে এ্যাম্বুলেন্সে করে রোগীকে সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান।

ভিকটিম ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর গ্রামের আমির হোসেন মেলকার পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে সহ বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রেখে মারা যান। আমির হোসেন মেলকারেরে ছোট মেয়ে সাথী স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর থেকে সাথী তার বাবার বাড়িতেই থাকেন। এটা ভাই শামীম মেলকার, সম্রাট মেলকার ও সোহেল মেলকার মেনে নিতে পারেনি। সাথী তার বাপের সম্পত্তির ভাগ চাইতে গেলে তারা নানা ভাবে সাথীকে অত্যাচার নির্যাতন শুরু করে যাতে সে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। শনিবার (৫ জুন) সকালে বোনের সম্পত্তি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে তারা সাথীকে পরিকল্পিত ভাবে লোহার রড ও বাশ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে এবং মুখে বিষ ঢেলে হত্যা চেষ্টা করে। পরে তারা সাথীকে ডামুড্যা উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে পেলে রেখে পালিয়ে যায়।

ডামুড্যা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, সাথীর সারা শরীর জখমপ্রাপ্ত। জানতে চাইলে সাথী দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, আমার পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাৎ করার জন্য আমার আপন ভাই শামীম মেলকার, সম্রাট মেলকার ও সোহেল মেলকার আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমাকে রড ও বাশ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে। আমার মুখে বিষ ঢেলে আমাকে মারতে চেয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

ডামুড্যা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক রাহী দাস দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, সাথীর ভাইয়েরা সাথীকে হাসপাতালে নিয়ে এসে বলেন সাথী বিষ খেয়েছে। এই বলে তারা হাসপাতাল থেকে চলে যান। পরে সাথীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন দেখতে পাওয়ায় ডামুড্যা থানা পুলিশকে খবর দেই এবং প্রথমিক চিকিৎসা দিয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে রেফার করি। ততক্ষণে পুলিশ চলে আসে। পুলিশ এসে সাথীর কোন লোকজন না পেয়ে তারা নিজেরাই এ্যাম্বুলেন্সে করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

সাথীর অভিযুক্ত ভাই সোহেল মেলকার দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, আমার বোনের মাথায় সমস্যা আছে। এ কারণে তিনটি বিয়ে হলেও একটিও টিকে নাই। বোনের দেন মোহরের দশ লাখ টাকা বড় ভাই সবুজ মেলকার আত্মসাৎ করেছে। এখন সেই বোনকে আমাদের পিছনে লেলিয়ে দিয়েছে। সবুজ মেলকার বোনকে বিষ এনে দিয়েছে। সেই বিষ বোন নিজেই খেয়ে আমাদের ওপর দায় চাপাচ্ছে।

সবুজ মেলকার দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, আমি কোন গ্যাঞ্জামের মধ্যে নাই। ছোট বোন সাথী আমাদের বাড়ি থাকে এবং তার ভাগের অংশ দাবী করে এটা ছোট ভাইয়েরা মেনে নিতে পারছেনা। তাই তারা সবাই মিলে আজ সকাল থেকে পিটিয়ে জখম করেছে এবং মুখে বিষ ঢেলে হত্যা করতে চেয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবী করছি।

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহম্মেদ দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখি রোগীর অবস্থা গুরুতর। চিকিৎসক তাকে সদর হাসপাতালে রেফার করেছেন কিন্তু নিয়ে যাওয়ার মতো তার কোন লোকজন পাওয়া যাচ্ছিলনা। তাই আমরা এ্যাম্বুলেন্সে করে সাথীকে সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি। এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।