রবিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ ইং, ১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী
রবিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ ইং

ডামুড্যা থানা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ-শিক্ষার্থী বন্ধুসভা

ডামুড্যা থানা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ-শিক্ষার্থী বন্ধুসভা

অবশেষে শিক্ষার্থীদের শ্রেনীকক্ষে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর রবিবার থেকে শিক্ষাঙ্গন খুলে দেয়া হয়েছে। বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়েছে শিক্ষার্থীরা। ১৭ মাচ ২০২০ সাল থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মহামারী করোনা ভাইরাস জনিত কারনে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন শ্রেনীকক্ষে সরাসরি পাঠদান বন্ধ থাকলেও টেলিভিশন ও অনলাইনে পড়াশোনা চালিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। শহরের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাস করার সুযোগ পেলেও মফস্বল ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা সে সুযোগ ডিভাইস ও ইন্টারনেট এর অভাবে খুব কমই পেয়েছে। তাই সরাসরি শ্রেনীকক্ষে পাঠদান শুরু হওয়ায় প্রানোচ্ছল রুপে ফিরেছে শিক্ষাঙ্গন সমুহ।

শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার জয়ন্তী নদীর তীরে গড়ে উঠা সরকারি পূর্ব মাদারীপুর কলেজটি শরীয়তপুর জেলার সবচেয়ে প্রাচীন স্বনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী একটি কলেজ। এই কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দ শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছেন প্রানের আবেগ ও ভালোবাসা দিয়ে। উৎসব উৎসব আমেজ নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাসে ক্লাসে শুরু হয়েছে পাঠদান প্রক্রিয়া। করোনা কালীন এই দুঃসময়ে ছাত্র ছাত্রী তথা শিক্ষার্থীদের মাঝে ইভটিজিং, মাদক, বাল্যবিবাহ ও করোনা ভাইরাস নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি লক্ষ্যে ডামুড্যা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরীফ আহমেদ একটি ব্যতিক্রম আয়োজনের মধ্য দিয়ে কলেজ প্রাঙ্গনে পুলিশ -শিক্ষার্থী বন্ধুসভা এর আয়োজন করেন।

এই কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জহির উল্লাহ এর সভাপতিত্ব ও প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় উৎসব মুখর পরিবেশে পুলিশ – শিক্ষার্থী বন্ধুসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ জনগণের দুঃসময়ের বন্ধু। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের জনপ্রিয় স্লোগান, মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার। আপনার পুলিশ আপনার পাশে, তথ্য দিন সেবা নিন। এসব বিষয় শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন চমৎকার ও প্রানবন্ত এই বন্ধুসভায়। কলেজ ছাত্র ছাত্রীগণ প্রাণ ভরে উপভোগ করেন পুলিশ – শিক্ষার্থী বন্ধুসভার মনোমুগ্ধকর এই মুহূর্ত গুলো। বন্ধুসভার আড্ডায় ইভটিজিং, মাদক, বাল্যবিবাহ, নিরাপত্তা, করোনা ভাইরাস সহ নানাবিধ সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা হয়। ডামুড্যা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরীফ আহমেদ এসব গুরুত্ব দিয়ে শুনেন এবং শিক্ষার্থীদের যেকোন ধরনের দুর্দিনে বন্ধু হয়ে পরম মমতায় পাশে থাকবেন এবং আইনী সহায়তা প্রদান করবেন বলে ঘোষণা দেন।

পুলিশ -শিক্ষার্থী বন্ধুসভা টি সত্যিকার অর্থে থানা পুলিশের সাথে ছাত্রছাত্রীদের একটি অভিনব মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। যেখানে পুলিশ এবং শিক্ষার্থীগণ পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একাকার হয়ে গিয়েছিল। আলোচনা, আড্ডা, ছবি তোলা, হাসি, গল্পগুজব এসব নানান মজাদার বিষয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আজকের ব্যতিক্রমী ধারার পুলিশ -শিক্ষার্থী বন্ধুসভা ।