Friday 24th May 2024
Friday 24th May 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

শরীয়তপুরের খোদা বকস ছিলেন বীমাশিল্পের পথিকৃৎ

শরীয়তপুরের খোদা বকস ছিলেন বীমাশিল্পের পথিকৃৎ
বীমাশিল্পের পথিকৃৎ খোদা বকসের ১৩ মে ৪৯তম মৃত্যূবার্ষিকী।তিনি শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার দক্ষিণ ডামুড্যা গ্রামে ১ ফেব্রয়ারী ১৯১২ জন্মগ্রহণ করেন। বাঙালি মুসলমানদের ক্রান্তিলগ্নে খোদা বকস কর্মজীবন শুরু করেন। ওই সময় মুসলমানরা শিক্ষাদীক্ষায়, শিল্প-বাণিজ্যে অর্থাৎ সর্বক্ষেত্রেই হিন্দুদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে ছিল। তাদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগই চাষাবাদ করে জীবন নির্বাহ করতো। সে সময়ে জমিদারি প্রথা চালু ছিল, কিন্তু দু-চারজন ছাড়া অধিকাংশ জমিদার ছিলেন হিন্দু। শিল্প-বাণিজ্যে হিন্দুরা প্রতিষ্ঠিত ছিল বলে চাকরি-বাকরির ক্ষেত্রে ওইসব প্রতিষ্ঠানে মুসলমানদের স্থান হতো না। ফলে শিক্ষিত মুসলমান যুবকরা বেশিরভাগই সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত হওয়ার জন্য চেষ্টা করতো। অতি সামান্য সংখ্যক লোকই অন্যত্র চাকরি-বাকরির জন্য বা প্রাইভেট তথা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ফার্মে অথবা শিক্ষকতায় চাকরির জন্য চেষ্টা করতো। খোদা বকস ছাত্রজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হওয়া মুসলমানদের জন্য তখন অত্যন্ত কঠিন ছিল। সে সময়ে অর্থাৎ ত্রিশের দশকে প্রেসিডেন্সি কলেজ সমগ্র ভারতবর্ষের শীর্ষস্থানীয় কলেজগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল। সেই কলেজে ভর্তি হতে পারা অত্যন্ত কঠিন বিষয় ছিল। খোদা বকস সে কলেজ থেকে লেখাপড়া করে (বিএ ফাইনাল পরীক্ষা দিতে পারেননি অসুস্থতার কারণে) সেই কলেজেই কিছুকাল গ্রন্থাগারিকের কাজ করেন এবং পরবর্তীতে ওরিয়েন্টাল গভর্নমেন্ট সিকিউরিটি লাইফ অ্যাসুরেন্স কোম্পানিতে এজেন্ট হিসেবে যোগ দেন। যদিও তিনি সরকারি ভালো চাকরি পেতে পারতেন বলে আমি মনে করি। কিন্তু কেন যে তিনি সরকারি চাকরির দিকে মনোনিবেশ না করে প্রাইভেট এবং চ্যালেঞ্জিং পেশা গ্রহণ করলেন সেটা আজও আমি বুঝতে পারি না। সম্ভবত তাঁর চ্যালেঞ্জিং মনোভাব এবং মানসিকতার কারণেই তিনি বীমা পেশা গ্রহণ করেছিলেন।১৯৫২ সালে তিনি যখন ঢাকায় ইস্টার্ন ফেডারেল ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে (EFU) যোগদান করেন, তখন আমি সেই কোম্পানির একজন সিনিয়র অফিসার ছিলাম। আমাদের সঙ্গে উনি তাঁর অতীত কর্মজীবনের কথা আলাপ করতেন। প্রায়শ তিনি আতাহার আলী নামে জনৈক নামকরা জাদরেল বীমা ব্যবসায়ীর কথা আলোচনা করতেন। আতাহার আলী সাহেব সারা ভারতে একজন নেতৃস্থানীয় বীমাকর্মী ছিলেন। খোদা বকস বলতেন যে, আতাহার আলীর কাছ থেকেই তিনি বীমা পেশায় আসার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। আতাহার আলী বরিশালের লোক ছিলেন এবং কলকাতায় বীমা ব্যবসা করতেন।তদুপরি সে সময়ে আরেকজন অত্যন্ত শীর্ষস্থানীয় বীমাবিদ ছিলেন। তাঁর নাম সৈয়দ শমসের আলী। এটা খুব সম্ভব চল্লিশ দশকের এ-প্রান্তে বা ও-প্রান্তের কথা। তখন মুসলমানরা সবে জেগে উঠেছে। তখন মুসলিম লীগ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তদানীন্তন ইউনাইটেড বেঙ্গলে। একসময় ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন এবং কিছুকালের জন্য তিনি শিক্ষা দফতরের ভারপ্রাপ্ত ছিলেন। তখন ফজলুল হক মুসলমানদের শিক্ষাদীক্ষা এবং চাকরি-বাকরির জন্য যথেষ্ট অবদান রেখেছিলেন। বাঙালি মুসলমানদের একটা স্বকীয়তা প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। সত্যি বলতে গেলে বাঙালি মুসলমানরা আজ যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার জন্য সর্বপ্রথম ফজলুল হকের অবদানের কথা না বললেই নয়। ঠিক সে যুগেই খোদা বকসের কর্মজীবন শুরু। একথা বলতে দ্বিধা নেই সারা দেশে জীবন বীমা করার মতো বিত্তবান বাঙালি মুসলমানের সংখ্যা খুব অল্প ছিল। ইন্স্যুরেন্স করার মতো লোক প্রায় পাওয়াই যেতো না। তার প্রথম কারণ হলো আর্থিকভাবে মুসলমানদের পশ্চাৎপদতা। দ্বিতীয় কারণ ছিল মুসলিম মৌলবাদ সবসময় জীবন বীমা বা বীমাপত্র কেনাকে অনৈসলামিক বলে প্রচার করতো। এর ফলে বীমা ব্যবসা করা মুসলমানদের জন্য খুব কঠিন ছিল। এরকম অবস্থায় খোদা বকস জীবন বীমা পেশা গ্রহণ করেছিলেন। আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি, এটা একটা ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু সাহসী সিদ্ধান্ত ছিল। খোদা বকস প্রথমে ভারতবর্ষের প্রথম শ্রেণির বীমা কোম্পানি ওরিয়েন্টাল গভর্নমেন্ট সিকিউরিটি লাইফ অ্যাসুরেন্স কোম্পানিতে কর্মজীবন শুরু করেন মাঠকর্মী হিসেবে। আগেই বলেছি তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। যদিও তাঁর মক্কেল সম্পর্কে আমার জানার কথা নয়, তবু আমি মনে করি হিন্দুপ্রধান কলকাতা শহরে হিন্দুদের মধ্য থেকে বেশি ক্লায়েন্ট সংগ্রহ করে তিনি নিজের সুনাম প্রতিষ্ঠা করেন। এজন মুসলমান হিসেবে এভাবে ক্লায়েন্ট সংগ্রহ করা অত্যন্ত কুশলী কাজ ছিল বলে আমার ধারণা। এটা খুব সত্য যে, দেশবিভাগের আগেই খোদা বকস কলকাতায় প্রথম শ্রেণির বীমাকর্মী হিসেবে নিজের স্থান করে নিয়েছিলেন। এ কথা তদানীন্তন পাকিস্তান বা অন্যত্রও যথেষ্ট প্রচারিত হয়েছিল। ১৫ আগস্ট, ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষে মাত্র তিনটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ছিল মুসলমান মালিকানায় : ১. Eastern Federal Union Insurance Company Limited (EFU), যার প্রতিষ্ঠা ১৯৩২ সালে, কলকাতায়। ২. Muslim Insurance Company, যার প্রতিষ্ঠা ১৯৩৪ সালে লাহোরে এবং ৩. পরবর্তী সময়ে হাবিব ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি চল্লিশের দশকে বোম্বাই (বর্তমান মোম্বাই) শহরে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। EFU-এর প্রধান কার্যালয় ছিল কলকাতায়। পাকিস্তান হওয়ার আগেই হাবিব ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এবং EFU পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হয় কাগজকলমে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেও ১৯৫০ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত EFU-এর প্রধান কার্যালয় ছিল কলকাতা শহরে। অবশ্য তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে EFU দুটো শাখা অফিস খুলেছিল ঢাকা এবং চট্টগ্রামে। উল্লেখ্য, ভারত বিভাগের পূর্বভাগে EFU তার রেজিস্টার্ড অফিস চট্টগ্রামে স্থানান্তরিত হয়েছিল। হাবিব ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পূর্ব পাকিস্তানে নামমাত্র দু-চারজন চিফ এজেন্ট বা কমিশনভিত্তিক বীমাকর্মী রেখেছিল। অন্যদিকে মুসলিম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির দু-তিনটি শাখা ছিল পূর্ব পাকিস্তানে, কিন্তু ওই কোম্পানির আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না। ফলে কর্মীদের পুরোপুরিভাবে চালানোর মতো বেতন শাখা ম্যানেজার দিতে পারতো না। কিন্তু EFU আর্থিকভাবে অত্যন্ত সচ্ছল ছিল বলে শাখা অফিস এবং কর্মী ধরে রাখতে পেরেছিল।
উপরন্তু নামকরা বীমাকর্মীদের বেতনভুক্ত চাকরি দেওয়ার জন্য EFU কর্তৃপক্ষ তৈরি থাকতো। ঠিক সে সময় থেকেই EFU খোদা বকসকে নেবার জন্য সচেষ্ট হয়। ১৯৫২ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত EFU যেহেতু অবাঙালির প্রতিষ্ঠান ছিল ম্যানেজাররাও অবাঙালি ছিলেন। জামাল উদ্দীন নামে একজন পশ্চিম পাকিস্তানি ভদ্রলোক পূর্ব পাকিস্তানের সিনিয়র লাইফ ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতে এসেছিলেন। তিনি ১৯৫১ সালে ঢাকা অফিসে যোগ দেন এবং দুর্ভাগ্যবশত ১৯৫২ সালের ৮ জানুয়ারি মারা যান। ফলে EFU-এর ঢাকা অফিসে একটা শূন্যতা সৃষ্টি হয়। তেমন অবস্থায় EFU কর্তৃপক্ষ কলকাতায় খোদা বকসের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাঁকে করাচি ডেকে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন চাকরি বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনার জন্য, তখন তিনি ওরিয়েন্টালের ইন্সপেক্টর পদে দায়িত্বরত। সমস্ত সিদ্ধান্ত করাচিতে হয় এবং ১৯৫২ সালের ২ জুলাই খোদা বকস EFU-এর Life Manager পদে পূর্ব পাকিস্তান শাখায় যোগ দেন। [এই সময়ের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে Wolfram W. Karnowski লিখিত ‘ The EFU Saga’ গ্রন্থের ‘ Khuda Buksh : Life Insurance was his mission’ অধ্যায়ে]। ভিক্টোরিয়া পার্কের (বর্তমানে বাহাদুর শাহ পার্ক) দক্ষিণ পাশে জনসন রোডে EFU-এর অফিসে খোদা বকস যেদিন যোগ দেন, আমি অসুস্থ ছিলাম বলে সেদিন অফিসে যেতে পারিনি। কিন্তু জানতে পেরেছিলাম তিনি যেদিন যোগদান করেন, সেদিন থেকে অফিস এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে একটা সাড়া পড়ে গিয়েছিল। একটা কথা বলতে চাই যে, যেহেতু সে সময়ে বীমা করার লোকের সংখ্যা সীমিত ছিল, মুসলমানদের আর্থিক, সামাজিক অবস্থা খারাপ ছিল, বীমাবিরোধী মৌলবাদী প্রচারণা ছিল, সে কারণে এজেন্ট বা চিফ এজেন্টরা ভালো ব্যবসা আনতে পারতো না এবং তাদের বেতনও ঠিকমতো দেওয়া হতো না। অনেকেই কিছুদিন চাকরি করে নিরাশ হয়ে পেশা ত্যাগ করে চলে যেতো। কিন্তু খোদা বকস EFU-এর লাইফ ম্যানেজার পদে যোগ দিয়ে প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝে নিয়ে এক নতুন ব্যবস্থা চালু করলেন। তিনি শিক্ষিত যুবকদের উৎসাহ দিতে লাগলেন বীমা পেশায় যোগদানের জন্য এবং তাদেরকে রীতিমতো বেতনভিত্তিক নিয়োগপত্র দিলেন। যেহেতু নিয়মিত বেতনের ব্যবস্থা ছিল, সবাই নিরাপত্তা অনুভব করেছিল। অন্যদিকে তিনি কর্মীদের নিয়ে রীতিমতো ক্লাসের ব্যবস্থা করলেন- কীভাবে বীমা করতে মানুষকে উৎসাহিত করতে হয়, কীভাবে অফিস চালাতে হয় ইত্যাদি। ব্যবসা হোক আর না হোক, সব কর্মীর বেতন পদ্ধতি চালু করেন। এ ব্যবস্থা বীমাশিল্পের পদ্ধতি হিসেবে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে একক ছিল- আর কেউ এটা করতো না। ফলে শিক্ষিতরা বীমা পেশায় উদ্বুদ্ধ হতেন। জীবন বীমা পেশায় যেসব কর্মীকে তিনি নিয়োগ দান করতেন তারা যেন পেশা ছেড়ে না দেয় বা অন্য কোম্পানিতে চলে না যায়, সেজন্য তিনি সবসময় চেষ্টা করতেন। এ রকম অনেক ঘটনার আমি সাক্ষী। তারই দুটি বলছি : কোম্পানি ছেড়ে কেউ চলে গেলেও তিনি তাঁদের সম্পর্কে খোঁজখবর রাখতেন। মনে পড়ে ১৯৬১ সালে আমি ইস্টার্ন ফেডারেল ছেড়ে খাইবার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে যোগদান করি। এটা ছিল জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। একসময় আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি তাদের পূর্ব পাকিস্তান শাখার প্রধান হিসেবে আমাকে চায়। একসময় আমি খাইবার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে আমার পদত্যাগপত্র দিই। তখন খোদা বকস করাচি ছিলেন। তিনি বিষয়টা জানতে পেরে সেখান থেকে আমাকে টেলিফোন করে বলেন, “You must not leave Khyber Insurance Company and you must not join ALICO.” Because ALICO was his rival. He did not want me to join ALICO. And I did not join ALICO একবার EFU-এর একজন সিনিয়র বীমাবিদ অন্য কোম্পানিতে যোগ দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছিলেন। এ সংবাদ তাঁর কানে যায়। তিনি পরদিন বেলা ওঠার আগেই সেই কর্মীর বাসায় গিয়ে হাজির। কর্মীটি ঘর থেকে বাইরে যাবেন, তাকিয়ে দেখেন খোদা বকস দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি বেশ অবাক হয়ে গেলেন। তখন খোদা বকস তাকে গাড়িতে করে অফিসে নিয়ে এলেন এবং কোনোমতেই তিনি যেন অন্য কোম্পানিতে যোগদান না করেন, তার ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন। বীমা পলিসি ছোট হোক বা বড় হোক, ক্লায়েন্টের আর্থিক সঙ্গতি কম বা বেশি থাকুক তিনি এজেন্ট বা চিফ এজেন্টের সাথে ক্লায়েন্টের বাড়ি চলে যেতেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ রকম অনেক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। প্রসঙ্গত আমি এখানে দুটি ঘটনার উল্লেখ করছি : পঞ্চাশের দশকে ঢাকাতে তিনি গেন্ডারিয়া এলাকায় থাকতেন। একদিন বিকেলে আমি একজন ক্লায়েন্টকে নিয়ে তাঁর বাসার নিকট তাঁর বন্ধু ডা. এম. এ. ওয়াহেদের চেম্বারে (যা ছিল রাস্তা-লাগোয়া) মেডিকেল পরীক্ষার জন্য গেলাম। তিনি স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে গাড়িতে করে ওই পথে যাওয়ার সময় দেখলেন আমি একজন ক্লায়েন্টকে নিয়ে ডাক্তারখানায় বসে আছি। তৎক্ষণাৎ গাড়ি ঘুরিয়ে তিনি বাসায় গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের রেখে আমার ওখানে চলে এলেন। ক্লায়েন্টের ডাক্তারি পরীক্ষা হওয়ার পর তিনি তাকে এবং আমাকে তাঁর বাসায় নিয়ে গেলেন। অনেকক্ষণ ধরে তিনি তাকে ইন্স্যুরেন্সের সুবিধা-অসুবিধা বিষয়ে বললেন। আমি তাঁর এই ধৈর্য দেখে মনে মনে হাসছিলাম। আমি আমার জীবনে এর পূর্বে আর কাউকে এতো ধৈর্য সহকারে ইন্স্যুরেন্স সম্পর্কে বলতে শুনিনি। তিনি কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন- সকাল, বিকাল, সন্ধ্যা, রাত্রি বলে কোনো জিনিস তাঁর ছিল না। যাকে বলে কাজপাগল মানুষ- তিনি তা-ই ছিলেন। ১৯৫৩ সালের আগস্ট মাসে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের একজন সিনিয়র সেক্রেটারির সাথে আমার যোগাযোগ হয়েছিল। তাঁর মিন্টো রোডের বাসায় খোদা বক্সকে আমার নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তখন রোজার মাস ছিল। সেদিন সকালে ভীষণ বৃষ্টি হচ্ছিল। ভাবতে লাগলাম মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ডাক্তার এবং খোদা বকসকে সঙ্গে নিয়ে কি করে ক্লায়েন্টের বাসায় যাবো। হঠাৎ দেখি বৃষ্টির মধ্যেও খোদা বকস গাড়ি নিয়ে আমার বাসায় এসে হাজির। আমি ভীষণ অবাক হলাম। তারপর তিনি আমাদেরকে নিয়ে মিন্টো রোডের সেই সচিবের বাসায় গেলেন। তাঁর কথায় সচিব মুগ্ধ হলেন এবং বেশ বড় অঙ্কের একটা ব্যবসা হয়েছিল সেদিন। কর্মীদের প্রতি তিনি যেমন অত্যন্ত কঠোর ছিলেন, তেমনিভাবে দয়াশীলও ছিলেন। এমনও অনেক ঘটনা ঘটেছে টাকা আত্মসাৎ করার পর কোন কর্মীকে তিনি বরখাস্ত করলেন, কিন্তু পরব